জমির সংকটে নাগরিক জীবন: আবাসন ও পরিকল্পনায় আসছে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

প্রতিনিয়ত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও জমির পরিমাণ বাড়ছে না। এই সীমিত জায়গায় বাড়তি মানুষের আবাসন, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবা প্রদানের চাপ দিন দিন তীব্র হচ্ছে। শহরের ভবনের ধরন, আবাসন ব্যবস্থা, যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে ইতিমধ্যে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে জমির সংকট আরও প্রকট হলে নাগরিক জীবনে আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সচিব মনদীপ ঘরাই এ প্রসঙ্গে বলেন, জমির সংকট কেবল আবাসনের সমস্যা নয়, এটি সামগ্রিক জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করবে। নগর পরিকল্পনায় সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের পাশাপাশি কম জমিতে কীভাবে বেশি মানুষের জন্য বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

জমির ঊর্ধ্বমুখী দাম ও নির্মাণ ব্যয়ের কারণে ফ্ল্যাটের আয়তন ছোট হয়ে আসছে। বড় ফ্ল্যাট অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় ছোট ফ্ল্যাটের চাহিদা বাড়ছে। এতে আবাসন নকশায় জায়গার সর্বোচ্চ ও পরিকল্পিত ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আসবাবপত্র রাখা বা ঘরের বহুমুখী ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো এখন নকশায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

ঘনবসতিপূর্ণ শহরে নাগরিক সুবিধার ধরনেও পরিবর্তন আসছে। প্রতিটি ভবনে আলাদা সুবিধা না রেখে শিশুদের খেলার জায়গা, হাঁটাচলার পথ, ব্যায়ামাগার বা কমিউনিটি স্পেস যৌথভাবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ সামাজিক যোগাযোগ ও বিনোদন নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মনদীপ ঘরাই জানান, সরকারি জমি দখলমুক্ত করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা এবং 'ল্যান্ড ব্যাংক' তৈরির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবা শহরের কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে কাজের প্রয়োজনে মানুষকে প্রতিদিন শহরের কেন্দ্রে ভিড় করতে না হয়।

ভবিষ্যতের নগর পরিকল্পনায় কেবল কম জমিতে বেশি মানুষকে থাকার ব্যবস্থা করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়, বরং জনঘনত্ব ও নাগরিক অবকাঠামোর মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। রাজধানীতে জমির সংকটের ফলে ঢাকার বাইরের এলাকাগুলোতেও আবাসনের গুরুত্ব বাড়ছে এবং আবাসন মেলার মতো উদ্যোগগুলো ক্রেতাদের সচেতন করতে ভূমিকা রাখছে।