ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের সহিংস বিক্ষোভ, অচল শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্যাপক ধরপাকড় প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬ ফ্রান্সজুড়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ ক্রমশ সহিংস হয়ে উঠছে। শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা স্কুল ও সড়কের প্রবেশপথ অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায়। নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বাধ্য হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শুক্রবার প্রায় ৪০০টি স্কুল বন্ধ ছিল এবং মোট ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৫৬৪টিতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মূলত গত সেপ্টেম্বর মাসে প্যারিস অঞ্চলে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ক্লাস সময়, অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত গরম এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির মতো নানা অভিযোগ তুলেছে। প্যারিসের ১৫ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থী সাইমন জানান, গত এক বছর ধরে তাদের বিজ্ঞান শিক্ষক নেই এবং পাঠ্যবইয়েরও অভাব রয়েছে। শহরতলির স্কুলগুলোর অবস্থা আরও করুণ বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ব্রেস্টে কেরিশেন উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এবং পূর্বাঞ্চলীয় বেলফোর শহরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বেলফোরের ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এই পরিস্থিতিকে অসহনীয় বলে অভিহিত করেছেন। প্যারিসের দুটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা দমকল বাহিনী নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন। নিয়মিত কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহারের ফলে অনেক শিক্ষার্থী আহত হচ্ছে বলে তাদের দাবি। পুলিশের বিরুদ্ধে তিন বিক্ষোভকারীকে মারধরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাহিনীটির পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় তুলুজ শহরে কাঁদানে গ্যাসে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের একে অপরকে চোখের ড্রপ দিতে দেখা গেছে, আর অবারভিলিয়েতে পুলিশ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অভিযোগ করেন, কিছু সহিংস গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তার তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪০ জন প্রধান শিক্ষক। এছাড়া প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এবং ১০০টির বেশি স্কুলে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভে সন্তানদের মাধ্যমে কোনো সম্পত্তির ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যার ৯০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: উচ্চবিদ্যালয়ফ্রান্সশিক্ষাব্যবস্থাশিক্ষার্থী বিক্ষোভসহিংসতা