জাপানে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা, সব প্রিফেকচারে সতর্কসীমা অতিক্রম

প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬

জাপানজুড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাব নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশ আগেই এ বছর দেশটিতে ফ্লু মৌসুম শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের সবগুলোতেই ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্তের হার নির্ধারিত সতর্কসীমা ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশজুড়ে সংক্রমণের দ্রুত বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের প্রায় ৩ হাজার চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে গত রোববার পর্যন্ত এক সপ্তাহে গড়ে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। যদিও আগের সপ্তাহে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ, তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, বিগত বছরগুলোর প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে এই হার কমে আসাটা সাময়িক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংক্রমণের তীব্রতা ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে সবচেয়ে বেশি, যেখানে প্রতিটি চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীর হার ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এটি নির্ধারিত ৩০ শতাংশ সতর্কতার মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া সাইতামা (১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ), ইবারাকি (১২ দশমিক ৫০ শতাংশ), আইচি (১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ) এবং গিফু (১০ দশমিক ১৮ শতাংশ) প্রিফেকচারেও আক্রান্তের হার ১০ শতাংশের সতর্কসীমা অতিক্রম করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১৯৯৯ সালে তথ্য রাখা শুরুর পর থেকে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এত আগে ফ্লু মৌসুম শুরু হওয়ার ঘটনা। গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর দেশটিতে ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণ নির্ধারিত সাপ্তাহিক সীমা অতিক্রম করেছিল, কিন্তু এবার মৌসুম গতবারের চেয়ে প্রায় এক মাস আগেই শুরু হয়েছে। এর আগে ২০০৯ সালে জাপানে সবচেয়ে আগে ফ্লু মৌসুম শুরু হয়েছিল, যখন ১০ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে রোগীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ২০২৩ সালে দেশটিতে বছরজুড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ।

এই দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখার মতো মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।