ব্যাটারি প্রযুক্তিতে আসছে বড় বিপ্লব, চার্জ হবে কয়েক মিনিটে

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৬

রাতে ফোন চার্জ দেওয়া কিংবা বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়—এই ‘রেঞ্জ অ্যাংজাইটি’ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে ব্যাটারি প্রযুক্তিতে বহু বছর ধরে যে স্থবিরতা ছিল, তা কাটানোর ইঙ্গিত মিলছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার গবেষণাগারে এমন ব্যাটারি তৈরির কাজ চলছে, যা কয়েক মিনিটেই চার্জ হতে সক্ষম। এসব ব্যাটারি অনেক বেশি শক্তি ধরে রাখবে এবং বছরের পর বছর ব্যবহারের পরও ক্ষমতা হারাবে না।

এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে ‘সলিড-স্টেট ব্যাটারি’। বর্তমানে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে তরল পদার্থ থাকলেও, সলিড-স্টেট ব্যাটারিতে ব্যবহার করা হয় সিরামিক, কাচ বা বিশেষ পলিমারের মতো কঠিন পদার্থ। এর ফলে ব্যাটারির ‘এনার্জি ডেনসিটি’ বা শক্তি ধারণের ঘনত্ব অনেক বেড়ে যায়। বর্তমানের উন্নত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে এই হার প্রতি কেজিতে ৩০০ ওয়াট-ঘণ্টা হলেও, সলিড-স্টেট ব্যাটারি ৩৫০ থেকে ৫০০ ওয়াট-ঘণ্টা পর্যন্ত শক্তি ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে তরল উপাদান না থাকায় এতে আগুন লাগার ঝুঁকি কমে এবং ব্যাটারির ক্ষয়ও হয় ধীরগতির। গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক দশক ব্যবহারের পরও এগুলো মূল ক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশ ধরে রাখতে সক্ষম।

ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে দ্রুত চার্জিং ব্যবস্থা। নতুন নকশায় লিথিয়াম-মেটাল অ্যানোড ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ে স্মার্টফোন চার্জ দেওয়া সম্ভব হবে। গাড়ির ক্ষেত্রেও টয়োটা ২০২৭ সালের মধ্যে এমন ব্যাটারি আনার লক্ষ্য নিয়েছে, যা মাত্র ১০ মিনিটে একবার চার্জে ১ হাজার কিলোমিটার চলতে পারবে। স্যামসাংও নয় মিনিটে ৮০ শতাংশ চার্জ নিতে সক্ষম ব্যাটারির নমুনা দেখিয়েছে।

তবে এই প্রযুক্তির ব্যাপক বাণিজ্যিক ব্যবহারে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কঠিন পদার্থের পৃষ্ঠ পুরোপুরি মসৃণ না হওয়ায় দুই অংশের মধ্যে অতি ক্ষুদ্র ফাঁক তৈরি হতে পারে, যা শক্তি প্রবাহে বাধা দেয়। এই সমস্যা সমাধানে গবেষকরা কাজ করছেন। পাশাপাশি প্যানাসনিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন উপাদান ব্যবহার করে মাত্র তিন মিনিটে ১০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ দেওয়ার পরীক্ষামূলক সাফল্য পেয়েছে।

ব্যাটারির ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও অদ্ভুত কিছু ধারণা সামনে আসছে। সূর্যমুখীর বীজের খোসার মতো জৈব বর্জ্য থেকে ব্যাটারি তৈরির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা ‘কোয়ান্টাম ব্যাটারি’ নিয়ে কাজ করছেন। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের ‘সুপারপজিশন’ ও ‘এনট্যাঙ্গেলমেন্ট’ নীতি ব্যবহার করে তৈরি এই ব্যাটারি বড় আকারেও অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।

বাস্তবসম্মত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়িতে প্রথম বাণিজ্যিক সলিড-স্টেট ব্যাটারি দেখা যেতে পারে। শুরুতে দাম বেশি থাকলেও উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে। এটি কেবল চার্জ দেওয়ার সময় কমাবে না, বরং ফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের চিরাচরিত অভ্যাস বদলে দেবে।