যেভাবে মারা গিয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় টি-রেক্স ‘স্কটি’

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স ডাইনোসরের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছেন গবেষকেরা। প্রায় ৬৬ কোটি বছর আগে বর্তমান কানাডার ভূখণ্ডে দাপিয়ে বেড়ানো বিশাল এই ডাইনোসরটি কীভাবে মারা গিয়েছিল, তা উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ওক রিডজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষকদের ধারণা, ‘স্কটি’ নামের ৪২ ফুট বা প্রায় ১২ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই দানবীয় শিকারি ডাইনোসরটি জীবনের শেষ সময়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে লোনা পানির এক জলাভূমিতে তার মৃত্যু হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই টি-রেক্সের মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে গবেষকেরা অত্যন্ত শক্তিশালী নিউট্রন ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। এই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে জীবাশ্মটির কোনো ক্ষতি না করেই স্কটির হাড়ের ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করা সম্ভব হয়। স্কটির জীবাশ্মীভূত হাড় বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা সেখানে রক্তনালির একটি জটিল জালের সন্ধান পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, শিংওয়ালা ট্রাইসেরাটপস প্রজাতির কোনো ডাইনোসর শিকার করতে গিয়ে অন্য একটি ট্রাইসেরাটপসের শিংয়ের আঘাতে স্কটির পাঁজর ভেঙে গিয়েছিল। এই গুরুতর আঘাতের ফলেই শরীরের ভেতরে রক্তনালির ওই জাল তৈরি হয়। মৃত্যুর পর দ্রুত পচন না হওয়ার কারণে হাড়ের ভেতরের এই সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো চমৎকারভাবে সংরক্ষিত ছিল।

গবেষণায় ব্যবহৃত নিউট্রন প্রযুক্তি হাইড্রোজেনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তা নরম টিস্যুর চিহ্নও সহজে খুঁজে বের করতে পারে। স্কটির হাড়ের ভেতরে লোহা সমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ থেকে গবেষকেরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, মৃত্যুর আগে ডাইনোসরটির শরীরে ক্ষত নিরাময়ের একটি চেষ্টা চলেছিল। তবে হাড় পুরোপুরি জোড়া লাগার আগেই ডাইনোসরটি মারা যায়।

এই অনন্য আবিষ্কারকে লটারি জেতার সঙ্গে তুলনা করেছেন রেজিনা ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মরিসিও বারবি। তিনি জানান, স্কটির পাঁজরে খনিজযুক্ত রক্তনালির যে বিশাল নেটওয়ার্ক পাওয়া গেছে, তা এর আগে কোনো ডাইনোসরের জীবাশ্মে দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে কানাডার সাসকাচোয়ান অঞ্চলের ফ্রেঞ্চম্যান রিভার ভ্যালিতে স্কটির জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছিল। স্কটি ছিল এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বয়স্ক টি-রেক্স ডাইনোসর। মৃত্যুর সময় এই দানবীয় প্রাণীর বয়স হয়েছিল প্রায় তিরিশ বছর, যা এই প্রজাতির ডাইনোসরদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিরল ঘটনা।