চট্টগ্রাম বন্দরে ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞাকে ‘বেআইনি’ বলল সিইউজে প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২৬ নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে গণমাধ্যমের সংবাদ সংগ্রহ ও তথ্যের অবাধ প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কোনো বৈধ সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্প্রতি জারি করা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ সংক্রান্ত নির্দেশনাকে ‘নজিরবিহীন ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। বুধবার সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বানুমতি ছাড়া বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ অবকাঠামো, সংরক্ষিত এলাকা, অপারেশনাল তথ্য, স্কেচ এবং যেকোনো ধরনের অবকাঠামোর ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচার করা যাবে না। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা গণমাধ্যমে এমন তথ্য প্রকাশ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সিইউজের নেতৃবৃন্দ বলছেন, বন্দরের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও, একে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করা অগ্রহণযোগ্য। সাংবাদিকরা দেশের বিদ্যমান আইন ও পেশাগত নীতিমালা মেনেই সংবাদ সংগ্রহ করেন। অস্পষ্ট ও ঢালাও এমন নির্দেশনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য চরম উদ্বেগজনক। এছাড়া সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারায় নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সিইউজের নেতারা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, এতে বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে যখন আলোচনা ও প্রশ্ন চলছে, ঠিক তখনই এমন নিষেধাজ্ঞা জনমনে নতুন ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। বন্দর পরিচালনা, বিনিয়োগ, চুক্তি, শ্রমিক স্বার্থ ও জনসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বন্ধ করার কোনো অবকাশ নেই। গণমাধ্যমকে তথ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করে কোনো প্রতিষ্ঠান জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে না, বরং এতে জনমনে অহেতুক বিভ্রান্তি ও সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরিশেষে, নিরাপত্তার নামে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন সাংবাদিক নেতারা। বন্দর কর্তৃপক্ষকে সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ না ভেবে বরং স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনা প্রত্যাহার না করা হলে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ তা মেনে নেবে না বলে কঠোর হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। SHARES গণমাধ্যম বিষয়: গণমাধ্যমের স্বাধীনতাচট্টগ্রাম বন্দরনিরাপত্তাসংবাদ সংগ্রহসিইউজে