সীতাকুণ্ডের ঘটনায় ঢাকার নর্দ্দা থেকে প্রধান অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি

প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মো. মঞ্জুর আহমেদকে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসান প্রকাশ রানাকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানাধীন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নর্দ্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) একটি যৌথ দল। এসআরবি-৭ (চট্টগ্রাম) ও এসআরবি-৩ (মগবাজার, ঢাকা) এই যৌথ আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানাধীন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নর্দ্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি সূত্র জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে সীতাকুণ্ড থানার মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসান ঢাকার গুলশান এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর যৌথ দল নর্দ্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। সীতাকুণ্ডের গোলাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসানের ছেলে এই মেহেদী হাসান বর্তমানে ডিএমপির হাতিরঝিল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন, যেখানে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে মঞ্জুর আহমেদের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা মঞ্জুরকে বাধা দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। এর জের ধরে ২০ সেপ্টেম্বর তাকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। এতে গুরুতর আহত মঞ্জুর আহমেদ পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি দায়ের করেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর দায়ের করা এই মামলায় মেহেদী হাসান রানাকে ১ নম্বর আসামি করা হয় এবং আরও সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়। মামলাটি শুরুতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৬, ৩৮৫, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হলেও পরবর্তীতে এর সাথে ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড থানার মামলাটি ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়।