খুলশী থানায় ৬ মাসে ৫ ওসি বদল

প্রকাশিত: ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২৬

চট্টগ্রামের আলোচিত খুলশী থানায় গত ৬ মাস ১৪ দিনে মোট পাঁচবার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিবর্তন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর রাতে সিটি করপোরেশনে বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন বগাকে গ্রেপ্তার অভিযানে সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওসি আবদুর রহিমকে বদলি করা হয়।

সেই রাতে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনা সামাল দিতে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থলে এসে জানান, বগা নিজে সেখানে আসেননি, তাঁর দুই ভাইয়ের আসার কথা ছিল। মেয়র আরও দাবি করেন, সিটি করপোরেশন সবার জন্য উন্মুক্ত জায়গা এবং বগা যদি সেখানে আসতেন, তবে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী তখনই তাঁকে আটক করতে পারতেন। বগা এসে থাকলে তিনি ‘বাই এয়ারে’ আসেননি, কোনো গাড়িতে করে এসেছেন।

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়রের অনুসারীরা ওসির কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ৭ অক্টোবর বিকেলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত আদেশে ওসি আবদুর রহিমকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সাথে আকবরশাহ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামানকে খুলশী থানার নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই আদেশে চকবাজার থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নাজের হোসেনকে আকবরশাহ থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ থেকে খুলশী থানায় ওসির পদে ঘন ঘন রদবদল চলছে। ২৫ মার্চ মো. জাহেদুল ইসলামকে পাঁচলাইশ থানায় বদলি করা হলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন মো. আরিফুর রহমান। এরপর ১৩ জুন ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও তাঁকে হেনস্তার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়। সেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এসআই শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করে সিএমপি। এর আগের দিন ১২ জুন শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে নগরের লালখান বাজার এলাকায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর করে খুলশী থানার পুলিশ।

এরপর ১৫ জুন স্বল্প সময়ের জন্য মো. সোলাইমানকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও দ্রুত তাঁকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়। এরপর দায়িত্ব পান সিটিএসবির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক। ২৩ আগস্ট তাঁকে সরিয়ে পাঁচলাইশ থানায় বদলি করা হয় এবং আবদুর রহিমকে খুলশী থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাত্র ১ মাস ১৪ দিন দায়িত্ব পালনের পর তাঁকেও এবার সরিয়ে ফেলা হলো।

রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে ওয়াকিল হোসেন বগা বর্তমানে পুলিশি নজরদারিতে রয়েছেন। চাঁদাবাজি, মাদক ও বিস্ফোরকসহ তাঁর বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে। পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে মারধর এবং পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি প্রধান আসামি। এছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর বগার বাবা মো. জাবেদ বাদী হয়ে ওসি আবদুর রহিমকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে ঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।

খুলশী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্যও নিয়মিত আলোচনার বিষয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় হৃদয় নামের এক কিশোর খুন হন। তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ফাইভ স্টার ও সেভেন স্টার নামের দুটি গ্যাংয়ের সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। নিহত হৃদয় ফাইভ স্টার গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন। পুলিশ বলছে, বগা ও রকিবুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি সেভেন স্টার গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন, অন্যদিকে ফাইভ স্টার গ্যাংয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন বিজয়, কামরান ও শান্ত। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতেই অপরাধ দমনে ঘন ঘন ওসি বদলের বিষয়টি নিয়ে শহরজুড়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। খুলশী থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ঘটনা আলোচনায় এসেছে।