চট্টগ্রাম বন্দরে ছবি ও ভিডিও ধারণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৬ চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলে বন্দর এলাকায় যেকোনো ধরনের অননুমোদিত ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, স্কেচ তৈরি এবং তা প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং গণমাধ্যমসহ কোনো মাধ্যমেই বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি ব্যবস্থা এবং অপারেশনাল তথ্যাদি প্রকাশ গ্রহণযোগ্য নয়। অনুমতি ছাড়া এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে বিদ্যমান আইন ও নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে KPI, সংরক্ষিত এলাকা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনার ক্ষেত্রে অনুমতিবিহীন কোনো কার্যক্রম না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রাণকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধি মেনে পরিচালিত এই বন্দর ‘আইএসপিএস’ অনুসরণকারী হিসেবে ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জনের গৌরব ধরে রেখেছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণির কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন (KPI) হিসেবে এই বন্দরের অবকাঠামো ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বন্দর কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশপথ, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যোগাযোগ কাঠামো, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং নজরদারি সংক্রান্ত যেকোনো দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বন্দর ব্যবহারকারীদের এই নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে পালনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ এমন এক সময়ে এই বিধিনিষেধ আরোপ করল, যখন মালামাল চুরি, জালিয়াতি এবং কন্টেইনার গায়েবসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বন্দরটির সক্ষমতা ও দক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। বন্দরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে নিয়মিত প্রশ্ন উঠছে। এরই মধ্যে গত বছর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ, মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে। এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে চেয়ারম্যানের স্ত্রী আইরিন জামান এবং তাদের দুই ছেলে মুহতাসিম ইয়াসার ও সারান ইয়াসারের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের সত্যায়িত কপি চেয়েছিল দুদক। যদিও এরপর ওই অনুসন্ধানের অগ্রগতির বিষয়ে কোনো তথ্য আর জানা যায়নি। নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ১২ ধারা এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস আইন, ১৯২৩-এর বিভিন্ন বিধানের কথা উল্লেখ করেছে। বলা হয়েছে, বন্দরের সীমানার অন্তর্ভুক্ত সব স্থান সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে বিবেচিত। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল তথ্য বা নকশা অননুমোদিতভাবে ধারণ ও প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। SHARES অপরাধ বিষয়: কী পয়েন্ট ইনস্টলেশনচট্টগ্রামচট্টগ্রাম বন্দরদুদকনিরাপত্তানিষেধাজ্ঞা