কেরানিহাটে যানজট নিরসনে ১৪৪ কোটির প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২৬

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম পয়েন্ট হলো কেরানিহাট বাজার। দুই লেনের সরু এই রাস্তায় প্রতিদিন বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও মাইক্রোবাসের পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহনের চাপে তৈরি হয় ভয়াবহ যানজট। অনেক সময় কয়েকশ মিটার ছাড়িয়ে এই জট ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী সড়কগুলোতেও। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানগামী যাত্রী, পণ্যবাহী গাড়ির চালক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, যানজট কেবল সময় নষ্ট করছে না, বরং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে কেরানিহাট বাজার থেকে সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা পর্যন্ত অংশে যানজট দীর্ঘদিনের নিত্যসঙ্গী। সড়কের ধারণক্ষমতার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ওভারটেকিং, হঠাৎ লেন পরিবর্তন এবং বাজার এলাকায় পথচারী পারাপারের কারণে প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অবশেষে দীর্ঘ এই দুর্ভোগের অবসানে আশার আলো দেখা দিয়েছে। কেরানিহাট বাজার অংশ চার লেনে উন্নীতকরণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি শুধু একটি সড়ক নয়, এটি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কারণে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে বিবেচিত। বর্তমান দুই লেনের সড়কে বাজার ও পথচারীদের চাপের কারণে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সেই তুলনায় কেরানিহাট বাজারের সড়ক অবকাঠামো অনেকটাই পুরোনো। ফলে কেরানিহাটের বহুদিনের দাবি এখন আর শুধু দাবি নয়, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা একটি প্রকল্প।

এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ–আংশিক সাতকানিয়া) আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ। গত ২৩ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে দেওয়া ডিও লেটারে তিনি জরুরি ভিত্তিতে কেরানিহাট বাজার অংশ চার লেনে উন্নীত করার অনুরোধ জানান। এতে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপের কারণে নিয়মিত যানজট ও দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে সাধারণ মানুষ। এরপর গত ২৯ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পের অনুমোদন মেলে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জামাল হোসেন জানান, কেরানিহাটে যানজট এখন আর নির্দিষ্ট কোনো দিনের সমস্যা নয়, ব্যস্ত সময়ে প্রতিদিনই এখানে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বাসযাত্রী আনিসুল ইসলামের ভাষ্যমতে, এই কয়েক কিলোমিটার পথ পার হতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করা সম্ভব হলে এই রুটে যানবাহনের গতি বাড়বে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, মাঠপর্যায়ে কাজের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ, বাজারের বিদ্যমান স্থাপনা সরানো এবং বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি স্থানান্তর করার মতো কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে। এসব জটিলতা দ্রুত নিরসন করা গেলে প্রকল্পের সুফল দ্রুত পাওয়া সম্ভব হবে। এদিকে প্রকল্পের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এখন তাদের মূল দাবি, যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা না ঘটে। এমপির আবেদনের পর বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় এগোয়।

সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি কেবল তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের দাবি নয়, বরং বৃহত্তর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের নিরাপদ যোগাযোগের প্রশ্ন। কক্সবাজার, বান্দরবান ও চট্টগ্রামগামী মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং মহাসড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।