নাগালের বাইরে ডিমের দাম, বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২৬

সাধারণ মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মাধ্যম ছিল ডিম। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে নিত্যপণ্যের চড়া মূল্যের বাজারে এখন এই পণ্যটিও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম প্রধান পাইকারি বাজার পাহাড়তলী ঘুরে দেখা গেছে, ডিমের দাম অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চার মাস আগেও লাল ডিমের ডজন যেখানে খুচরা পর্যায়ে ১২০ টাকা এবং পাইকারি বাজারে ১০৭ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমানে তা খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকা এবং পাইকারি আড়তে ১৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে ডজনপ্রতি ২০-৩০ টাকা বেড়ে গিয়ে তা মধ্যবিত্তদেরও নাগালের বাইরে চলে গেছে। তিনি বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম কমবে—এমন আশা করাও যেন বেকার।

বাজারে সাদা ডিম ও হাঁসের ডিমের অবস্থাও প্রায় একই। সাদা ডিম এখন খুচরা ডজন ১৪৫ টাকা ও পাইকারিতে ১২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে হাঁসের ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। আগে যেখানে বছরজুড়ে ডিমের ডজন ৮৫ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করত, এখন তা ১২৫ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল হয়েছে। বাজারের এই অস্থিরতায় সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

পাহাড়তলী বাজারের আড়তদারদের মতে, প্রান্তিক পর্যায় থেকে ডিমের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুরগির খাবার ও ওষুধের চড়া দাম, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটরের জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়াকে তারা এই ঊর্ধ্বগতির জন্য দায়ী করেছেন। এসব বাড়তি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে। একসময় সকালের নাস্তা অথবা দুপুরের খাবার, সবখানেই জায়গা করে নেয় স্বল্পমূল্যের এই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার।

নগরীর বউবাজার এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী সেলিনা আক্তার জানান, পরিবারের মাছ-মাংসের ঘাটতি পূরণে তারা ডিমের ওপর ভরসা করতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাও ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় মধ্যবিত্তরা বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের এই অব্যাহত ঊর্ধ্বগতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এভাবেই দাম বাড়তে থাকলে আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা না খেয়ে মরবে।’।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ২ হাজার ৪৪১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়েছে, যার বিপরীতে মাথাপিছু বাৎসরিক প্রাপ্যতা ১৩৭টির কিছু বেশি। তবে এই তথ্যের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের ‘খানা আয়-ব্যয়’ জরিপে দেখা যায়, মানুষের মাথাপিছু দৈনিক ডিম গ্রহণের পরিমাণ ১২ দশমিক ৭ গ্রাম, যা ২০১৬ সালের ১৩ দশমিক ৬ গ্রামের চেয়েও কম। মূলত ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে খাদ্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির জেরে ডিমের বাজারে এই ধারাবাহিক অস্থিরতা শুরু হয়।