সাজেকের অবরোধ অব্যাহত: সরকারি প্রতিনিধি দলের সাথে সমঝোতা ভেস্তে গেল প্রকাশিত: ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬ রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে সশস্ত্র সন্তু লারমা গ্রুপের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ইস্যুতে সরকারি প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। ফলে পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের চলমান অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে সাজেক ইউনিয়নের উজো বাজারে সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে স্থানীয় দুই সংগঠনের নেতাদের প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাজেকবাসীর পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হলেও তা নিয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বৈঠকে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২২ অক্টোবর অবরোধকারীদের ওপর হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত, জড়িতদের শাস্তি, নাম আসা সেনা কর্মকর্তাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে বদলি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ, উজো বাজার থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রত্যাহার এবং সাজেক থেকে সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও এক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন সংগঠন দুটির নেতারা। আন্দোলনকারীরা তাঁদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি না চালানোর পাশাপাশি নেতাকর্মীদের হয়রানি ও গ্রেপ্তার বন্ধের আহ্বান জানান। তারা অভিযোগ করেন, আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থী ঝরণা চাকমাকে বাড়িতে গিয়ে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারি প্রতিনিধি দল তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছিল। তবে সংগঠন দুটির নেতারা এই সময়সীমা মানতে রাজি হননি। তারা সর্বোচ্চ পাঁচ দিনের মধ্যে সশস্ত্র সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। বৈঠকে স্থানীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা, ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের উষাতন চাকমা, জিকো চাকমা এবং নারী সমাজের সদস্য সাধনা দেবী চাকমা। অন্যদিকে সরকারি দলের নেতৃত্বে ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। এছাড়াও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, দুই জেলার ডিসি ও পুলিশ সুপাররা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা ছিলেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মোর্তজা আলী খান এবং রাঙামাটির পুলিশ সুপার মো. আ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ৩১ আগস্ট থেকে জেএসএস (সন্তু লারমা গ্রুপ) সদস্যরা রুইলুই পর্যটন কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী দাড়িআদাম গ্রাম থেকে মাচালং সেনা ক্যাম্পের পাশে অবস্থান নিয়ে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাঁরা জুমচাষিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছেন এবং মৃত্যুর হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। কস্মিতা ত্রিপুরা নামের নয় বছরের এক শিশু তাদের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। ধান মাড়াইয়ের মেশিন, হলুদ গুঁড়া করার মেশিন ও ইঞ্জিনচালিত বোট থেকেও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তোলেন তাঁরা। এ ছাড়া জুমচাষিদের কাছ থেকে প্রতি আড়ি জুমের জন্য এক হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। নেতাদের অভিযোগ, সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সদস্যরা বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছে এবং ভূয়োছড়ি গ্রামের দশবল বৌদ্ধবিহারের মাঠে বাংকার খুঁড়ে অবস্থান করছে। এতে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হচ্ছে। তাঁরা আরও জানান, ১১ অক্টোবর থেকে এই দাবিতে অবরোধ শুরু করলেও সেনা কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তা কয়েকবার শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু ২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর লাঠিচার্জ ও গুলির ঘটনায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয় এবং উজো বাজারে ভাঙচুর চালানো হয়। নির্ধারিত সময়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ১৫ অক্টোবর থেকে আবার অবরোধ শুরু হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে কর্মসূচি ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রেখে ২২ অক্টোবর থেকে পুনরায় অবরোধ শুরু করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জননিরাপত্তার স্বার্থে সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো কোনো অপরাধ নয়। উল্টো আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন নেতারা। তবে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সরকারি প্রতিনিধি দলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। SHARES রাজনীতি বিষয়: অবরোধপার্বত্য চট্টগ্রামরাঙামাটিসন্তু লারমা গ্রুপসাজেক