কানাডার দাবানল নিয়ে নতুন শুল্কের হুমকি দিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশিত: ১২:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২৬

কানাডার শত শত দাবানল থেকে নির্গত ঘন ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে যাওয়ার ঘটনায় দেশটির ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের অভিযোগ, কানাডার ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে এই ‘নোংরা, দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর’ বাতাস যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের ‘অভিযোগ না করে আগুন নেভাতে সহায়তা পাঠান’ শীর্ষক আহ্বানের পরপরই ট্রাম্প এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

কানাডিয়ান ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত কানাডায় ৮৮৮টি দাবানল সক্রিয় ছিল, যার বেশির ভাগই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এর মধ্যে অন্টারিওতেই জ্বলছে ১৯০টির বেশি দাবানল। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনিকে ফোন করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইবেন। তার দাবি, কানাডা তাদের বন ও ঝোপঝাড়ের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করছে না। এর আগে গত বছরও ট্রাম্প কানাডার ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যদিও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবাধ বাণিজ্যের পরেও নতুন কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

দাবানলের প্রভাব শুধু কানাডাতেই সীমাবদ্ধ নেই; এর ধোঁয়া মিনেসোটা, মিশিগান, পেনসিলভেনিয়া, ওহাইও ও নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আইকিউএয়ারের তথ্যমতে, শুক্রবার ডেট্রয়েট ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন আইনপ্রণেতা জন জেমস, জন মুলেনার, জ্যাক বার্গম্যান ও লিসা ম্যাকক্লেইন কানাডার কর্মকর্তাদের কাছে লেখা এক খোলা চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, কানাডা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আগুন নেভানোর কাজে সম্পৃক্ত হতে পারে।

এদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইকে দুই দেশের যৌথ দায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন। কানাডার জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী ১৯৮২ সালের পারস্পরিক অগ্নিনির্বাপণ চুক্তি এবং ২০২৫ সালের জি-৭ সম্মেলন থেকে উদ্ভূত সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সংসদ সদস্য এলিনর ওলশেভস্কি জানান, কানাডা বন সংরক্ষণ ও অগ্নি প্রতিরোধে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জেরে রিপাবলিকান দলের কিছু নেতা কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার পুরোনো প্রস্তাবের পক্ষে কথা বলেছেন, যা অনেক কানাডিয়ানের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকে এর প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করেছেন এবং অন্টারিও ও মিশিগানকে সংযুক্তকারী গর্ডি হাও ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।