৫ আগস্ট: যেভাবে পতন ঘটেছিল শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের প্রকাশিত: 1:37 PM, August 5, 2026 ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। আন্দোলনকারীদের ভাষায় এটি ‘৩৬ জুলাই’। এদিন একটি রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের সফল সমাপ্তি ঘটে এবং দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ও শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত হয়। এদিন শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। বর্তমানে তারা দিল্লিতে অবস্থান করছেন। জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে মানুষ হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। দুই বছর আগে ৫ আগস্টের সকালটি ছিল অত্যন্ত রক্তাক্ত ও আতঙ্কময়। সরকার কারফিউ ভেঙে জমায়েত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে রাস্তায় ছিল। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি সফল করতে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে জড়ো হন। যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও উত্তরার প্রবেশপথ দিয়ে মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করেন। বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও অন্যান্য পয়েন্টে বিক্ষোভকারীরা জমায়েত শুরু করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়, এতে অনেকে নিহত হন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুপুর ১২টার দিকে গণভবন থেকে সেনাসদস্যরা সরে যেতে শুরু করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। আইএসপিআর জানায়, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দুপুর ২টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র-জনতা আরও সাহসী হয়ে গণভবনের দিকে এগোতে থাকেন। দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ভারতের আগরতলার উদ্দেশে রওনা হন। একই সময়ে ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় ও সুধা সদন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সরে যান এবং আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীদের দৌড়ে বের হতে দেখা যায়। বিকাল ৪টায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানান। এই খবরে সারা দেশে সাধারণ মানুষ বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, তার মা পদত্যাগের বিষয়টি আগেই বিবেচনা করছিলেন এবং পরিবারের অনুরোধে নিরাপত্তার খাতিরে দেশত্যাগ করেছেন। সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজিত জনতা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গণভবন ও জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে সরকার পতনের উৎসব করেন। তারা সংসদ সদস্যদের চেয়ারে বসে ছবি তোলেন এবং গণভবন থেকে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যান। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে সরকার গঠন করে এবং জামায়াত বিরোধী দলের আসনে বসে। SHARES অন্যান্য বিষয়: গণ-অভ্যুত্থানজুলাই আন্দোলনবাংলাদেশ রাজনীতিশেখ হাসিনা৫ আগস্ট