শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দুই বছর পর সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত: 4:00 PM, August 5, 2026 ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ছিল নানা গোপনীয়তা ও নাটকীয়তায় ঘেরা। ঘটনার দুই বছর পর সামরিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে সেই অভিযানের নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারি তরফে অফিশিয়ালি কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, তবে সূত্র বলছে, গোয়েন্দা সংস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারসহ বর্তমান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে লাখো মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ করে। দুপুরের আগেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয় এবং জনস্রোত পুলিশের গুলি উপেক্ষা করে গণভবনের দিকে অগ্রসর হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে হাসিনাকে মাত্র ৩০ মিনিট সময় বেঁধে দিয়ে দ্রুত গণভবন ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপরই বাণিজ্যমেলার কাছাকাছি স্থানে বিমানবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারটি নামে। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর হাসিনা ও তার বোন রেহানাকে নিয়ে হেলিকপ্টারটি উড়াল দেয়। সূত্র জানায়, এয়ার কমোডর আব্বাস ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির ছিলেন ওই হেলিকপ্টারের পাইলট ও কো-পাইলট। বিকাল ৩টার দিকে হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে অবতরণ করে। এ সময় তেজগাঁও বিমানবন্দরে কর্তব্যরত উইং কমান্ডার কানিজ ফাতেমা বেতার বার্তায় রেসকিউ মিশনের বিষয়টি ঢাকা ট্রাফিক কন্ট্রোলে জানান। কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই ইঞ্জিন চালু অবস্থায় একটি সামরিক পরিবহণ বিমান সি-১৩০ জুলিয়েট অপেক্ষমাণ ছিল। সেখানে হাসিনার তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, তার স্ত্রী শাহিন সিদ্দিকী ও পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। কুর্মিটোলায় অবতরণের পর শেখ হাসিনা উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে গণভবনমুখী জনস্রোত ও আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতির খবর নেন। অন্য একটি সামরিক সূত্র জানায়, পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়ে দিলেও তারিক সিদ্দিকী নিজে ওই বিমানে ওঠেননি। পরদিন তিনি গোপনে চট্টগ্রাম চলে যান এবং বন্দর দিয়ে নৌপথে দেশত্যাগ করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে সহায়তার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েলকে গ্রেফতার করা হয়। ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে বিমানবাহিনীর পরিবহণ বিমানটির ককপিটে পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজা ও কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ ছিলেন। ৫ আগস্ট বিকাল ৬টা ১৫ মিনিটে বিমানটি দিল্লির উপকণ্ঠে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসাবে উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং প্রচলিত রুট এড়িয়ে বিমানটি দিল্লির পথে যাত্রা করে। ভারতে অবতরণের পর দেশটির নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান। নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার পর ক্রু এবং নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে বিমানটি পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসে। পরে পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কোর্সে ফিলিপাইনে পাঠানো হয় এবং কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বর্তমানে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন। এই রেসকিউ মিশনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বিমানবাহিনীর তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মান্নাফি। তিনি ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফির ছেলে। সরকার পতনের পর আবু আহমেদ মান্নাফি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পরে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত সরকারি কোয়ার্টার চন্দ্রিকায় আত্মগোপনে ছিলেন। এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এবং সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) এম সরোয়ার হোসেন বলেন, পদত্যাগের পরও সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এসএসএফ’র নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। ফলে এসএসএফ এবং সামরিক কর্মকর্তারা তাদের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন, যা আইনত বে-আইনি নয়। তবে সংবিধানের আর্টিকেল ২১ অনুযায়ী, সে সময় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে যে কেউ গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে পারতেন, যা গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতো। SHARES জাতীয় বিষয়: গণ-অভ্যুত্থানদেশত্যাগনিরাপত্তা মিশনবাংলাদেশশেখ হাসিনা