দিল্লির নতুন চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও হাসিনার অবস্থান প্রকাশিত: 10:30 AM, August 4, 2026 বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ভারত। তবে দিল্লির সামনে বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভারতে অবস্থান। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন, যা ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে উঠেছে। ভারতের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে কেবল মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং তাকে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ অনুরোধটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছে বলে জানানো হয়েছে। তবে ঢাকার কাছে এসব আশ্বাস খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। কারণ, এসব বক্তব্য প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ আগেই শেখ হাসিনা ভারতের অবস্থান থেকেই রয়টার্সকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বিচারের মুখোমুখি হতে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক নীতির মৌলিক দুর্বলতা এই ঘটনায় স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পার হলেও, দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক উষ্ণতা কমে এসেছে। ভারত এখনও ছোট প্রতিবেশীদের সীমিত ছাড় ও কৌশলগত চাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের যে পুরোনো নীতি অনুসরণ করছে, তা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আর কার্যকর নয়। বাংলাদেশ এখন বহুমাত্রিক বা মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট ভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও সম্প্রতি বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। এই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নিয়েছেন, যেখানে তিনি বাণিজ্য ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার কৌশল নয়, বরং ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প অংশীদার খোঁজার প্রচেষ্টা। এছাড়া বিমসটেক সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ এবং জি-২০ সম্মেলনে শেখ হাসিনার আগের আমন্ত্রণের পার্থক্যটি ঢাকার কূটনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে, যা ভারতকে ব্যক্তিনির্ভর কূটনীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাণিজ্য বৃদ্ধির মতো সুবিধা পেলেও, শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের জনমনে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতের নীতিনির্ধারণী মহলে অবশ্য ইতিবাচক কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ভারতের সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ভিসা সেবা স্বাভাবিক করা এবং গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সুপারিশ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে সম্পর্ক টেকসই করতে হলে ভৌগোলিক নৈকট্যের চেয়ে সার্বভৌম সমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠন জরুরি, অন্যথায় ঢাকা বিকল্প অংশীদারদের দিকে আরও বেশি ঝুঁকে পড়বে। বাংলাদেশে এ ধরনের কূটনৈতিক প্রটোকলকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। কারণ, ২০২৩ সালে জি-২০ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে ভারত বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, যদিও বাংলাদেশ ওই জোটের সদস্য নয়। বিপরীতে, তারেক রহমানকে একটি আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধির পরিচয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এতে অনেকের ধারণা আরও জোরালো তবে ভারতের নীতিনির্ধারণী মহলে ইতিবাচক কিছু ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে। দেশটির সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশকে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ভিসা সেবা স্বাভাবিক করা এবং ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরু করার সুপারিশ করেছে। SHARES অন্যান্য বিষয়: কূটনীতিপররাষ্ট্রনীতিবাংলাদেশভারতশেখ হাসিনা