ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত: ৪:০৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৬ ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর আজ সোমবার নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষ একে ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ওয়াশিংটন সময় বেলা ১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) এক সংবাদ সম্মেলনে এই কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে স্কট বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘ডি-ডে’ অভিযানের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, এটি এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান। নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত না জানালেও বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত দেশগুলোও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব দেশ ইরানকে তোষণ করছে এবং তাদের এই পরিণতি বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে চীনকে সহযোগিতার আহ্বান জানালেও চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির জবাবে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা করেছেন, যদি ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ অব্যাহত থাকে, তবে হরমুজ প্রণালি বা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো পথে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হবে না। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে কোনো দেশের সমর্থন বা অংশগ্রহণকে ইরান ‘যুদ্ধ’ হিসেবেই গণ্য করবে। উল্লেখ্য যে, গত ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের জেরে ইরান ও লেবাননের হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। তবে এখনো ইরানের কাছে যথেষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রয়েছে, যা দিয়ে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে হুমকি তৈরি করতে পারে। ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি আগে থেকেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রা ও জ্বালানিসংকটে জর্জরিত। নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং বিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে কাতার, পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির আজ তেহরান সফর করবেন বলে জানা গেছে। এদিকে, যুদ্ধের এই সময়সীমায় যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের ১৮ জন সেনা নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। SHARES অর্থনীতি বিষয়: অর্থনৈতিক যুদ্ধইরানতেল রপ্তানিনিষেধাজ্ঞাযুক্তরাষ্ট্র