রমজানে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম প্রস্তুতি প্রকাশিত: ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২৬ আগামী রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতি বছর রমজান এলে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে রমজান মাসে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা ছয়টি পণ্যের ক্ষেত্রে এই কারসাজি বেশি দেখা যায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার আগে থেকেই সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে সরকার। পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলার পাশাপাশি বাজার তদারকি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সাড়ে ১২ হাজার টন ছোলা ও ৩ হাজার ৩০০ টন খেজুর কিনতে চায় সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এ বিষয়ে সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। আগামী রমজানে দেশের নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির। বর্তমানে সংস্থাটির ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৮টি কার্ড সক্রিয় রয়েছে, যা রমজান নাগাদ ৮৫ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এসব কার্ডধারী পরিবারের মাঝে এক কেজি করে ছোলা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য ১৩ লাখ সক্রিয় কার্ডধারীর মাঝে এক কেজি করে খেজুর বিতরণ করা হবে। এছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় ট্রাকে করে আরও ৪০ লাখ উপকারভোগীর কাছে এক কেজি করে খোলা ছোলা ও আধা কেজি করে খেজুর বিক্রি করা হবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে (সম্ভাব্য ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি) রমজান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এনডিসি জানান, রমজানের পণ্যসামগ্রী নিয়ে দেশে যাতে কোনো ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মানুষ যাতে স্বস্তিতে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো সংকট হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক চাহিদার একটি বড় অংশই রমজান মাসে ব্যবহৃত হয়। দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন, যার মধ্যে রমজানেই প্রয়োজন হয় প্রায় ৩ লাখ টন। এর বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন মাত্র ৫ লাখ টন। মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৭ লাখ টন, যার মধ্যে রমজানে লাগে ৮০ হাজার টন এবং স্থানীয় উৎপাদন প্রায় দেড় লাখ টন। চিনির বার্ষিক চাহিদা ২০-২১ লাখ টন হলেও রমজানে প্রয়োজন হয় প্রায় ৩ লাখ টন। ছোলার বার্ষিক চাহিদা সর্বোচ্চ ২ লাখ টন, যার সিংহভাগই লাগে রমজানে। এছাড়া বছরে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন খেজুরের চাহিদার বিপরীতে কেবল রমজানেই প্রয়োজন হয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। অতীতে লোকদেখানো কিছু অভিযান চালানো হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই সিন্ডিকেট চক্র বছরের পর বছর পার পেয়ে গেছে। এবার যাতে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য কার্যকর মনিটরিং এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবারের মতো এবারও হয়তো বলা হবে সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। কিন্তু সনাতনী ছকে তদারকি করা হলে বড় বড় করপোরেট গ্রুপ ও আমদানিকারকরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটবে, আর প্রশাসন নীরব দর্শক হয়ে থাকবে। তিনি দাবি জানান, আমদানি ও চাহিদার সঠিক তথ্য সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে এবং সরবরাহ লাইনের যেকোনো বাধা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: ক্যাবটিসিবিনিত্যপণ্যের দামবাজার মনিটরিংবাণিজ্য মন্ত্রণালয়রমজান