ধর্ষণের মতো অপরাধে কিশোরদের জড়িয়ে পড়া বাড়ছে উদ্বেগ প্রকাশিত: ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধে নাবালক তথা শিশু-কিশোরদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মেয়েশিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সি অনেক কিশোরকে গ্রেফতারও করেছে। আগস্ট মাসে ধর্ষণের শিকার ৫৪ জন শিশুর মধ্যে ৩৬ জনই ছিল কন্যাশিশু, যার মধ্যে ৮ শিশুকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া অপরাধের চিত্র ভয়াবহ। ৩০ আগস্ট ভোলার মনপুরায় বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে ৬ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। ২৬ আগস্ট সাভারে ৭ বছর বয়সি শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোর এবং ৫ আগস্ট রাজবাড়ীর পাংশায় ৬ বছরের কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম ৬ এপ্রিল জামালপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক ছেলেশিশুকে (১০) ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন। এছাড়া বরগুনায় একই ধরনের অপরাধে ১৫ বছরের এক কিশোরকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ৪৬ জন, ধর্ষণের পর হত্যার শিকার ১৪ জন এবং ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যার শিকার হয়েছে ৩ জন শিশু। এছাড়া চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৪ শিশু-কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক কিশোরীকে অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় এবং ৪ জুলাই নেত্রকোনায় স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। মনোরোগ চিকিৎসকরা এই প্রবণতার পেছনে আর্থসামাজিক তারতম্যকে দায়ী করছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ জানান, ধর্ষণকারী নাবালক শিশুদের মধ্যে অনেকেই মাদকাসক্ত বা বিকারগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া পরিবার ও সমাজ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ফলে মায়া-মমতার অভাব এবং দৈনন্দিন টানাপোড়েন যৌন অপরাধের দিকে তাদের ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া পর্নোগ্রাফিতে আসক্তিও একটি বড় কারণ। তিনি অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজকে সন্তানদের বিকৃত আসক্তি থেকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। সরকারিভাবে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও মানবাধিকার সংস্থা ও পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের আওতায় প্রতিবছর প্রচুর কিশোর বা অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি গ্রেফতার হচ্ছে, তবে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। SHARES অন্যান্য বিষয়: অপরাধআইন ও সালিশ কেন্দ্রকিশোর অপরাধধর্ষণশিশু নির্যাতন