জাতিসংঘ সফর সংক্ষিপ্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী, বাতিল সানফ্রান্সিসকো যাত্রা প্রকাশিত: ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ বাংলাদেশের জন্য এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় চার দশক পর আবারও বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির আসনে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সময়ে সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যা বৈশ্বিক মঞ্চে এক ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক মুহূর্ত তৈরি করেছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগের সফরসূচিতে জাতিসংঘের কর্মসূচি শেষে ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তা এখন বাতিল করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো এবং দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সফর সংক্ষিপ্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন জাতীয়তাবাদী সরকারপ্রধান। তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশের ফার্স্টলেডি জুবাইদা রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় তার যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর এখন মূলত নিউইয়র্ককেন্দ্রিক হচ্ছে। এর আগে সানফ্রান্সিসকোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল, যা এখন বাদ পড়ছে। তবে ওয়াশিংটন ডিসিতে কিছু কর্মসূচি থাকতে পারে। ২৩ সেপ্টেম্বরের নৈশভোজটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সফরসঙ্গীর বহরও আগের চেয়ে অনেক ছোট করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩০ জনের নিচে রাখার লক্ষ্য নিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৮০ জন এবং ২০১৯ সালে ২৯২ জন সফরসঙ্গী নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন। এমনকি ২০২৪ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরেও সরকারি নথিতে ৮০ জনের বেশি সফরসঙ্গী ছিলেন। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয় এড়াতে এবার সীমিত পরিসরে নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদেরই রাখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন। জাতিসংঘের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য তুলে ধরবেন। এছাড়া বিশ্বশান্তি, সংঘাতের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা তার বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাওয়া হবে এবং সাইডলাইনে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। SHARES অন্যান্য বিষয়: জাতিসংঘতারেক-রহমানপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়প্রধানমন্ত্রীযুক্তরাষ্ট্রসফর