ডিম-মুরগি ও মাছের দাম আকাশছোঁয়া, আমিষ বাদ দিচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (2026), ১২:০০ এএম। একসময় দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের আমিষের প্রধান ভরসা ছিল ডিম, ব্রয়লার মুরগি এবং পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ফলে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাওয়া এই শ্রেণির মানুষ এখন খাদ্যতালিকা থেকে সস্তার আমিষও বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। এছাড়া সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, ফার্মের ডিমের ডজন ঠেকেছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়, যা পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আমিষের অন্য উৎসগুলোর দামও সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে সবচেয়ে কম দামের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশ ও তেলাপিয়ার কেজিও এখন ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা। পাশাপাশি গরুর মাংসের কেজি দাঁড়িয়েছে ৮৫০ টাকায়, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৮০০ টাকা। আর খাসির মাংস কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে প্রতি কেজিতে ১ হাজার ৩০০ টাকা, যার আগের দাম ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা। কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা ভ্যানচালক আমিনুল ইসলাম সজিবের কণ্ঠে উঠে আসে সাধারণ মানুষের এই কষ্টের চিত্র। তিনি জানান, সারারাত ভ্যান চালিয়ে তিনি ৬৫০ টাকা আয় করেছেন। এই সীমিত আয় দিয়ে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে এসে তিনি বিপাকে পড়েছেন। সজিব বলেন, আগে এক থালা ভাত একটি ডিম দিয়ে অনায়াসে খাওয়া যেত, কিন্তু এখন ডিমের দামের কারণে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। গরুর মাংস কেনার সামর্থ্য তার অনেক আগেই হারিয়ে গেছে, এমনকি ব্রয়লার মুরগি বা সস্তার পাঙাশ-তেলাপিয়া মাছ কিনতেও এখন তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মেয়ের মাংস খাওয়ার আবদার থাকলেও আয়ের সাথে ব্যয়ের সংগতি না থাকায় তিনি তা কিনতে পারছেন না। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম অতিরিক্ত বেশি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন। তাদের দৈনন্দিন আমিষের চাহিদা মেটানোর প্রধান মাধ্যম ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও মাছের দাম এখন আকাশচুম্বী। অনেকেই এসব খাবার কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন, যার ফলে তাদের পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেট করে এই পণ্যগুলোর দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের পকেট কাটা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের বাজার তদারকি বাড়ানোর তাগিদ দেন। শুক্রবার ছুটির দিন রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজারে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন বাজারে প্রতিডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৫৫ টাকা, যা পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা। পাশাপাশি প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১৯০-২০০ টাকা। পাশাপাশি প্রতিকেজি সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ এবং লেয়ার প্রতিকেজি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া গরু ও খাসির মাংসে হাত দেওয়া যেন বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৮৫০ টাকা, যা কিছুদিন আগেও ৮০০ টাকা ছিল। আর খাসির মাংস কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৩০০ টাকা, যা আগে ১২০০-১২৫০ টাকা ছিল। আর বাজারে কম দামের মাছ পাঙাশ ও তেলাপিয়ার কেজিও ২৩০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: আমিষের দামক্যাবডিমের দামনিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যনিম্ন আয়ের মানুষবাজার-দরব্রয়লার মুরগি