চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু প্রকাশিত: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২৬ চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং বৈশ্বিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আবারও জোরদার হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই প্রকল্পের খসড়া চুক্তি অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়। যদিও কোন অপারেটরকে এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে শুরু থেকেই দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের নাম আলোচনায় রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর বন্দরের মোট হ্যান্ডলিং করা কনটেইনারের ৪৪ শতাংশই এই টার্মিনাল দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল), যারা ২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এই দায়িত্ব পালন করছে। সিডিডিএল-এর অধীনে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও টার্মিনালটিতে বেশ কিছু পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ২০১৭ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে বর্তমানে টার্মিনালটি বিভিন্ন পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বর্তমানে এনসিটির সরঞ্জামের সহজলভ্যতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও তা ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। এর ফলে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২০ থেকে ২২টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মান হচ্ছে ঘণ্টায় ৩০টি। এই ধীরগতির কারণে জাহাজের অবস্থানকাল দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের আমদানি-রপ্তানি ব্যয়ও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষতা বাড়াতে বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে জাহাজের অবস্থানকাল বেড়ে যাচ্ছে এবং আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের ব্যয়ও বাড়ছে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে পিপিপি ও জিটুজি কাঠামোর আওতায় এনসিটি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার পুনরায় বিদেশি অপারেটরের বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও ৮ ফেব্রুয়ারি তা স্থগিত করা হয়েছিল। এরপর বর্তমান সরকার গত ৪ জুন ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয় এবং এর সহায়তায় ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিম গঠন করা হয়। তবে তখন সেই উদ্যোগ চূড়ান্ত পরিণতি পায়নি। সরকারের নির্দেশনার পর আলোচনা প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিম গঠন করে। বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে ৮০টি টার্মিনাল পরিচালনা করা ডিপি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। তারা এনসিটিতে স্মার্ট সফটওয়্যার, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং আধুনিক টার্মিনাল ব্যবস্থা যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই অংশীদারিত্ব কার্যকর হলে বিশ্বের বড় জাহাজগুলো সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারবে, যার ফলে দেশের বাণিজ্য ব্যয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এর পাশাপাশি টার্মিনালটি ঘিরে দীর্ঘদিনের লুটপাটের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে লজিস্টিকস ও অবকাঠামো খাতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের কারণে বিশ্বের শীর্ষ জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি বড় মাদার ভ্যাসেল পাঠাতে আগ্রহী হতে পারে। নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকার ‘ল্যান্ডলর্ড মডেল’ অনুসরণ করছে। এর ফলে জেটি, জমি ও অবকাঠামোর মালিকানা রাষ্ট্রের হাতেই থাকবে এবং ডিপি ওয়ার্ল্ড শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিচালনার লাইসেন্স পাবে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহির্নোঙরের নজরদারি এবং বন্দরের সামগ্রিক সিসিটিভি ফিড ও তথ্যভাণ্ডার কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: অর্থনীতিএনসিটিকনটেইনার টার্মিনালচট্টগ্রাম বন্দরডিপি ওয়ার্ল্ডবাণিজ্য