নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, লাঞ্ছিত সাখাওয়াত প্রকাশিত: ১১:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৬ নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) ভবনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান লাঞ্ছিত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আইনজীবী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। আহতদের মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির ও অতিরিক্ত পিপি ওমর ফারুক নয়ন রয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীদের তথ্যমতে, আসন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। একদিকে রয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান ও পিপি আবুল কালাম আজাদ জাকির। অন্যদিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির। ঘটনার দিন বিকেলে সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশের কক্ষে আইনজীবীরা খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আসন্ন নির্বাচন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপির দায়িত্ব গ্রহণ এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন স্থানান্তর নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আইনজীবীদের একে অপরকে কিল-ঘুষি মারতে দেখা যায়। সাখাওয়াত হোসেনকে রক্ষা করতে তার দেহরক্ষী পুলিশ সদস্যকে আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা গেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাক্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়, যা পরে পুলিশ গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে। সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধান অভিযোগ করেন, সাখাওয়াত হোসেন ও তার অনুসারীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে অতিরিক্ত পিপি ওমর ফারুক নয়নকে মারধর করেছেন। এর প্রতিবাদে তারা সাখাওয়াতসহ তার পক্ষের আইনজীবীদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। অন্যদিকে সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবির দাবি করেন, তারা তার কক্ষে খাওয়া-দাওয়া করছিলেন, তখন পাশের কক্ষ থেকে উসকানিমূলক শব্দ করা হলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তিনি ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। তবে সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। SHARES অন্যান্য বিষয়: আইনজীবী সমিতিনারায়ণগঞ্জবিএনপিসাখাওয়াত হোসেনহাতাহাতি