জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যুনিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও নির্ভুল করার আহ্বান প্রকাশিত: ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৬ একজন নাগরিকের আইনি পরিচয়ের শুরু হয় জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র, বিবাহনিবন্ধনসহ মোট ১৮টি নাগরিক সেবা ও অধিকারের সঙ্গে জন্মনিবন্ধন যুক্ত। অন্যদিকে, উত্তরাধিকার এবং সরকারি ভাতার মতো অধিকার সুরক্ষায় মৃত্যুনিবন্ধন অপরিহার্য। তাই জাতীয় পরিকল্পনার স্বার্থে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে নির্ভুল ও নাগরিকবান্ধব হওয়া প্রয়োজন। মঙ্গলবার জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। ‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত সুশাসন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সঠিক জন্মনিবন্ধন ছাড়া কোনো এলাকায় কত শিশু জন্ম নিচ্ছে, কতটি স্কুল-হাসপাতাল প্রয়োজন বা কত মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা দরকার, তা নির্ধারণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। একইভাবে, নির্ভুল মৃত্যুনিবন্ধন থেকে কোনো এলাকায় রোগের ঝুঁকি ও তা প্রতিরোধের পরিকল্পনা করা সহজ হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যা এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের ডেটাবেজে থাকা সংখ্যার মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে, যা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। ১৮৭৩ সালের ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী চলা এই প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ কোটি জন্মনিবন্ধন থাকলেও জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ১৮ কোটি। মূলত দ্বৈত নিবন্ধনের কারণেই এই অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। তিনি নাগরিকদের সময়মতো সঠিক নিবন্ধন করার আহ্বান জানান। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ বাস্তবায়নে জন্মনিবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, সিস্টেম কেবল তৈরি করলেই হবে না, তা হতে হবে নাগরিকবান্ধব। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য যথাযথ নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। রেজিস্ট্রার জেনারেল আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জনবল ও লজিস্টিক সংকটকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে ২০ থেকে ২৫ জন উদ্যোক্তা সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি মিখাল ক্রেজা ডিজিটাল সেবায় নাগরিকদের পরনির্ভরশীলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন। ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ বলেন, সঠিক পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো নির্ভুল জন্মনিবন্ধন। অনুষ্ঠানে নির্ভুল নিবন্ধন ও সনদ সংশোধনে বিশেষ অবদানের জন্য ১৩টি কার্যালয় ও চারজন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়। SHARES জাতীয় বিষয়: জন্মনিবন্ধনজাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবসনাগরিক সেবামৃত্যুনিবন্ধনস্থানীয় সরকার বিভাগ