মেঝেতে রোগী: পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬ পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে এক কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওয়ার্ডে শয্যা খালি না থাকায় অসংখ্য রোগীকে মেঝেতে শুয়েই নিতে হচ্ছে চিকিৎসা। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী সেবা নিতে আসেন এবং গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ জন রোগী এখানে ভর্তি হন। পটিয়াসহ পার্শ্ববর্তী পাঁচটি উপজেলার মানুষের চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এই হাসপাতালে রোগীর চাপ সবসময়ই অনেক বেশি থাকে। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতালটি আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের মানবেতর অবস্থা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। ওয়ার্ডে জায়গা নেই, শয্যা না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জানান, রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নীতকরণের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ সময় তিনি হাসপাতালের জরাজীর্ণ দশা দেখে এটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ারও ঘোষণা দেন। এছাড়া, রোগীদের জরুরি চিকিৎসায় ৫০টি রেবিস ভ্যাকসিন, সমপরিমাণ রেবিস আইজি, ১৫০টি ডায়রিয়ার স্যালাইন এবং ২০টি অ্যান্টিভেনম দ্রুত সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজ নেন। হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে দক্ষ জনবল নিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছেন চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পাঁচজন মেডিকেল অফিসার, চারজন নার্স, একজন মিডওয়াইফ, একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট, একজন রেডিওগ্রাফার, একজন বাবুর্চি এবং একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি এখানে আধুনিক প্যাথলজি সেবা ও ফিজিওথেরাপি সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক ব্যবস্থার পাশাপাশি লিঙ্গভেদে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে। পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নারী ও পুরুষ চিকিৎসক দেওয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী। কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে পটিয়া হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে ১০টি শয্যা ও ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করে এই সেবা চালু করা হবে, যার ফলে প্রতিদিন অন্তত ২০ জন রোগী ডায়ালাইসিসের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে ২০টি প্রসূতি শয্যা ও ২০টি নবজাতক শয্যা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আইসিইউ চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। ফলে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার পরিধিও বাড়বে হাসপাতালটিতে। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে মন্ত্রী পাঁচুরিয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সেটির নাজুক অবস্থা দেখে পুনর্নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম জানান, পটিয়া একসময় মহকুমা সদর হওয়ার কারণে এখানকার স্বাস্থ্য কাঠামো বৃহত্তর এলাকার রোগীদের সেবার জন্য গড়ে উঠেছিল। বর্তমান জনসংখ্যার চাপ বিবেচনায় হাসপাতালের লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, পটিয়া একসময় মহকুমা সদর ছিল। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনের ফলে হাসপাতালের প্রকৃত চিত্র এবং রোগীদের সমস্যাগুলো সরাসরি উঠে এসেছে। এই সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক এবং মন্ত্রীর পিএস এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সেবাকেন্দ্র ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। SHARES স্বাস্থ্য বিষয়: চট্টগ্রামচিকিৎসাপটিয়াস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সস্বাস্থ্যমন্ত্রী