প্রকৃত অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি যেন রেহাই না পায়, পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি প্রকাশিত: ১০:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২৬ চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে শনিবার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়েছে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, পুলিশ, আইনজীবী সমিতি ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ফোকাল পার্সন মো. মহিদুল ইসলাম মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে সব বিভাগের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও কার্যকর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পরে তিনি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরীর আদালতের বিচারক সংকটের চিত্র এবং ক্রমবর্ধমান মামলার চাপ নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনীর ওপর আলোকপাত করে আসামিদের আইনানুগভাবে গ্রেফতার থেকে বিচার সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কনফারেন্সে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. হাসান ইকবাল চৌধুরী, পিবিআই, সিআইডি, শিল্প পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন আনসার ভিডিপির পরিচালক মো. আমিন উদ্দিন, কোস্টগার্ডের আইন কর্মকর্তা মাসুম রেজা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য অফিস এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধিরা। স্থানীয় ১৬ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও (ওসি) এতে অংশ নেন। ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. খালেদ হোসাইন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের পরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. কাজী সাইফুল আলম, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের আইন কর্মকর্তা মাসুম রেজা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক। অংশীজনসহ চট্টগ্রাম মহনগর এলাকার ১৬ থানার অফিসার ইন-চার্জবৃন্দ এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ পরিদর্শকগণ উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুদ্দিন আলোচনায় অংশ নিয়ে মামলার তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, জব্দকৃত আলামত দ্রুত ধ্বংসের ব্যবস্থা, আদালত চত্বরে যাতায়াতের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বিচারপ্রার্থী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়া আদালত অঙ্গনের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর তারা জোর দেন। মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মফিজুল হক ভূইয়া শহরজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ এবং আদালতের পরিবেশ সুরক্ষায় পুলিশের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন। সমাপনী বক্তব্যে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের সময় ফৌজদারি কার্যবিধির সর্বশেষ সংশোধনী কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, তদন্তকাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে এবং অসহযোগিতা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতাকে দেশপ্রেম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নিরপরাধ কেউ যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং কোনো প্রকৃত অপরাধী যাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে ছাড়া না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে। তদন্তকাজে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করতে বাধ্য। যদি কেউ অসহযোগিতা করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যার ওপর যা দায়িত্ব, তা আন্তরিকতার সাথে পালন করাই হলো দেশ প্রেম। SHARES অপরাধ বিষয়: অপরাধআইন আদালতচট্টগ্রামপুলিশবিচার