জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে হরিণ কেনা ও পালনের নিয়মকানুন

প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় চিত্রা, মায়া ও সাম্বার—এই তিন প্রজাতির হরিণ থাকলেও মূলত চিত্রা হরিণই বিক্রির জন্য উন্মুক্ত থাকে। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় প্রায় ৩৫০টির মতো চিত্রা হরিণ রয়েছে। চিড়িয়াখানার পরিচালক মো. শাহিনুর আলমের তথ্য অনুযায়ী, চিত্রা হরিণ দ্রুত প্রজননক্ষম হওয়ায় প্রতিবছর এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। জায়গার সংকুলান ও উদ্বৃত্ত প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ এসব হরিণ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪টি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৩টি এবং চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ১৫টি হরিণ বিক্রি করা হয়েছে।

চিড়িয়াখানা থেকে হরিণ কিনতে চাইলে প্রতিটি হরিণের জন্য ৫০ হাজার টাকা মূল্য পরিশোধ করতে হয়। তবে এককভাবে কোনো হরিণ কেনার সুযোগ নেই; ক্রেতাকে অবশ্যই কমপক্ষে এক জোড়া (একটি পুরুষ ও একটি মাদি) হরিণ কিনতে হবে। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিড়িয়াখানায় যোগাযোগ করে বিক্রির জন্য হরিণ মজুত আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার পর বন অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হয়। বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ক্রেতার নির্ধারিত জায়গা পরিদর্শন করে হরিণ পালনের পরিবেশ ও সক্ষমতা যাচাই করার পর লাইসেন্স বা পজেশন সনদ প্রদান করেন। এই অনুমতিপত্র চিড়িয়াখানায় জমা দিলেই হরিণ কেনা সম্ভব হয়।

হরিণ লালন-পালনের ক্ষেত্রে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ২০১৭ সালের ‘হরিণ ও হাতি লালন-পালন বিধিমালা’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়। বিধিমালা অনুযায়ী, ১০টি পর্যন্ত হরিণ পালনকারীকে ‘শৌখিন লালন-পালনকারী’ এবং ১০টির বেশি হরিণ পালনকারীকে ‘খামারি’ হিসেবে গণ্য করা হয়। হরিণ পালনের জন্য কমপক্ষে ১০০ বর্গফুট আয়তনের ছাউনি বা শেড এবং প্রতিটি হরিণের জন্য ৫০০ বর্গফুট উন্মুক্ত বিচরণক্ষেত্র থাকা বাধ্যতামূলক। শেডের উচ্চতা কমপক্ষে ১০ ফুট হতে হবে এবং সেখানে সুপেয় পানি, খনিজ লবণ ও দানাদার খাবারের জন্য আলাদা পাত্র রাখতে হবে। এছাড়া হরিণ ২১০ থেকে ২২৫ দিন গর্ভধারণের পর একটি বাচ্চা জন্ম দেয়।

নিরাপত্তার স্বার্থে শেড ও বিচরণক্ষেত্রের চারপাশে ১০ ফুট উঁচু বেষ্টনী নির্মাণ এবং প্রাকৃতিক বনাঞ্চল থেকে অন্তত ৩০ কিলোমিটার দূরে খামার স্থাপন করতে হয়। এছাড়া হরিণ কেনা, বিক্রি, দান বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বন অধিদপ্তরের লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। হরিণ মারা গেলে বা নতুন বাচ্চা জন্ম নিলে সেই তথ্যও কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। মাংসের জন্য হরিণ বিক্রি বা খাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং নিয়ম ভঙ্গ করলে লাইসেন্স বাতিলসহ হরিণ জব্দ করার বিধান রয়েছে। চিড়িয়াখানা ছাড়াও বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বিভিন্ন বাণিজ্যিক খামার থেকে বন অধিদপ্তরের লাইসেন্স নিয়ে হরিণ কেনা ও পালন করা যায়।