পান্থকুঞ্জে এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত তদন্তের দাবি প্রকাশিত: 7:36 PM, July 25, 2026 ঢাকার পান্থকুঞ্জ পার্কে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্তটি কীভাবে নেওয়া হলো এবং এ বিষয়ে যথাযথ সমীক্ষা ও পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশবাদীরা। একই সঙ্গে এই পার্কের পরিবেশ ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে বিআইপি কনফারেন্স হলে ‘পান্থকুঞ্জ পার্ক: ফایت ফর দ্য আরবান কমন্স ইন ঢাকা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। আরবান স্টাডিজ ফাউন্ডেশন (ইউএসএফ) অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এর আওতায় পরিচালিত ‘দ্য ফাইভ… সিটি মাস্টারক্লাস সিরিজ: অর্ডিনারি ইকোলজিস অব রিপেয়ার’-এর অংশ হিসেবে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। যৌথভাবে এই আয়োজনে যুক্ত ছিল বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, ইন্টারডিসিপ্লিনারি সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব গ্লোবাল চেঞ্জ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি), বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন এবং দুনিয়াদারি আর্কাইভ। বৈঠকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সদস্য ও সাবেক সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, পান্থকুঞ্জে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্তটি কীভাবে নেওয়া হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি এই প্রকল্পটির পুনর্মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য নাগরিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন। গোলটেবিল বৈঠকের সভাপতি ও বিআইপির সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান আলোচনাটিকে তথ্য ও গবেষণানির্ভর করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি পুরো ঘটনাপ্রবাহ, নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য একটি যৌথ প্রমাণভিত্তিক তথ্যসংকলন বা ‘এভিডেন্স বুক’ (Evidence Book) তৈরির প্রস্তাব দেন। গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজীব। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকার বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনে রাজউক ও রিহ্যাবের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। আবাসন খাতের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে পরিবেশ ও নাগরিক অধিকার অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছে। ড্যাপ সংশোধনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের একটি অংশও বিভিন্ন প্রভাবের কারণে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে পারছে না। তিনি দাবি করেন, পান্থকুঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় দুই হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করেছে। বুয়েটের অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসীব চৌধুরী বলেন, বিদ্যমান আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে শহরের উন্মুক্ত স্থানগুলো সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ জন্য তিনি জনস্বার্থমুখী আইন ও নীতি সংস্কারের দাবি জানান। বিআইপির উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘আরবান কমন্স’ বা নাগরিকের উন্মুক্ত স্থান রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পার্ক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ উল্লেখ করেন, আদালত পরিবেশের পক্ষে রায় দিলেও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মতিন আবদুল্লাহ পরিবেশ ও নগর উন্নয়ন বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জোরদারের আহ্বান জানান। বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসানের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন বিআইপির সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ শাহারিয়ার আমিন, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নাঈম উল হাসান, সদস্য মোহাইমিনুল বাশার রাজ, আমিনা আনসারী, কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা সাদমান সাকিব, শিক্ষার্থী সানজানা মারিয়া কবির, পরিকল্পনাবিদ নিয়াজ রহমান, লেখক ও চিন্তাবিদ ফিরোজ আহমেদ, তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সৈয়দা রত্না, বেঙ্গল স্ট্রিমের স্থপতি ও কিউরেটর নিকলাউস গ্র্যাবার এবং পান্থকুঞ্জ প্রভাতী সংঘের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুদ্দিন তুহিন। SHARES রাজধানী বিষয়: এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েনগর পরিকল্পনাপান্থকুঞ্জ পার্কবাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনবিআইপির্যাম্প নির্মাণ