দেশের টুথপেস্টের ৭৫ শতাংশেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত

প্রকাশিত: 10:13 PM, July 26, 2026

দেশে বাজারে প্রচলিত টুথপেস্ট নিয়ে পরিচালিত এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) জানিয়েছে, দেশে বিক্রি হওয়া প্রতি চারটি টুথপেস্টের মধ্যে তিনটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই গবেষণায় ৩৪টি ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতেই (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এসডো ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে এই সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করে। টুথপেস্ট ব্যবহারের অভ্যাস এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা জানতে এই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকার ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ চালানো হয়। পাশাপাশি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই)’ ল্যাবরেটরিতে ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষিত টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের ২টির সবকটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে। শিশুদের জন্য বাজারে থাকা ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই (৬৬.৭%) মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো টুথপেস্টের মোড়কেই মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ নেই।

এসডোর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ জানান, নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন সম্ভব। এসডোর মহাসচিব ও সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, অধিকাংশ মানুষই জানেন না যে নিয়মিত ব্যবহৃত টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে। এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা মনে করেন, এই গবেষণা বাংলাদেশে ওরাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন খন্দকার জানান, মাইক্রোপ্লাস্টিক দাঁতের এনামেলের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিএসটিআই-এর উপ-পরিচালক মো. মনজুরুল করিম জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি আমলে নিয়েছেন এবং দ্রুতই মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড বা সহনশীল মাত্রা নির্ধারণে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মাহমুদা তামান্না খান এ কাজে বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৪১.৯ শতাংশ ভোক্তাই জানেন না যে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে।