আটক ও নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন আবু হানিফ

প্রকাশিত: 7:00 PM, July 26, 2026

গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিজের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে জানান, তিনি ১৮ থেকে ২২ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় এবং কারফিউ শিথিল হওয়ার পর ২৪ জুলাই তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিজের বাসায় ফিরে যান।

২৬ জুলাই শুক্রবার রাত ১টা ১৩ মিনিটের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে একদল লোক তার বাসায় হানা দেয়। আবু হানিফ জানান, সিভিল পোশাকে থাকা ৮ থেকে ১০ জনের দলটি দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢোকে এবং তার ছোট ভাইকে ধাক্কা দেয়। তারা কোনো পরিচয় না দিয়েই তাকে ও তার ভাইকে জোরপূর্বক প্যান্ট-শার্ট পরিয়ে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যায়। পুরো বাসাটি প্রায় ৩০-৪০ জন সাদা পোশাকধারী লোক ঘেরাও করে রেখেছিল এবং বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল।

আবু হানিফ জানান, তাকে মেইন রোডে রাখা একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়। সেখানে তিনি র‍্যাবের পোশাক পরিহিত দুজনকে দেখতে পান। এরপর চোখ বেঁধে তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে দীর্ঘক্ষণ চোখ ও হাত বেঁধে নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে তাকে র‍্যাব ১১ আদমজীনগরে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি ক্রসফায়ারের আশঙ্কায় ভীত ছিলেন।

পরদিন শনিবার রাত ১টায় তাকে নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি হেফাজতে ২০ ঘণ্টা রাখার পর কোনো আদালতে তোলা ছাড়াই রোববার রাত ৯টার দিকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আবু হানিফ অভিযোগ করেন যে, আটক থাকাকালীন বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও র‍্যাব ও ডিবি তার পরিবারকে তার অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানায়নি। এ সময় তার স্বজনরা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানা, ডিবি অফিস ও ঢাকার সিএমএম কোর্টে তার খোঁজ করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। অবশেষে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর ৬ আগস্ট তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।