মিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যা: ২৫ লাখ টাকায় চার শুটার ভাড়া প্রকাশিত: 5:02 PM, July 27, 2026 রাজধানীর মিরপুরে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সংস্থাটির তদন্ত অনুযায়ী, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। স্থানীয় ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা এবং একটি টিনশেড বাড়ির দখল নিয়ে কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে হাফিজের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরে বাবুকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চার পেশাদার শুটার ভাড়া করেন হাফিজ। তবে পরিকল্পিত ওই হামলায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ নিহত হন। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম সোমবার মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) এবং শাফিন আহমেদ (২২)। ঘটনার রাতে হামলাকারীরা বাবুর অফিসের সামনে অবস্থান নিয়েছিল। তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তারা মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করে। এরপর তল্লাশির চেষ্টা করা হলে একজন অস্ত্র বের করে ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই এলোপাথাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেনও আহত হন। হামলার পর পালানোর সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ চঞ্চলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তদন্তে উঠে এসেছে, গত ২৯ জুন প্রথম দফায় এই হত্যাকাণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অস্ত্রের সমস্যার কারণে তা ব্যর্থ হয়েছিল। পরে ২২ জুলাই অভিযুক্তরা ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান করেন এবং ২৩ জুলাই রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালান। ডিবিপ্রধান জানান, মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। চুক্তির অর্থের একটি অংশ অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল এবং অভিযুক্তদের থাকা-খাওয়ার খরচও বহন করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি অস্ত্রের উৎস শনাক্তের কাজ চলছে। কাফরুল থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলাটি ডিবির তদন্তাধীন। সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান আরও জানান, তদন্তে কোনো রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। SHARES জাতীয় বিষয়: ক্রাইমডিবিমিরপুরযুবদলহত্যাকাণ্ড