ছবিপ্রতি ২১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক, জন্মদিনে আলোচনায় কিয়ারা আদভানি প্রকাশিত: 10:32 AM, July 31, 2026 বলিউডের বর্তমান সময়ের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি। আজ ৩১ জুলাই এই তারকার জন্মদিন। ১৯৯২ সালের ৩১ জুলাই মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের শুরুটা সহজ ছিল না। তবে বর্তমানে তিনি হিন্দি সিনেমার প্রথম সারির নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এখন তিনি ছবিপ্রতি বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন এবং বিজ্ঞাপনের জন্য নেন ২ কোটি টাকা। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি ভারতীয় রুপি। জন্মের সময় তাঁর নাম রাখা হয়েছিল আলিয়া আদভানি। কিন্তু বলিউডে অভিষেকের আগে তিনি নাম পরিবর্তন করে কিয়ারা রাখেন, কারণ ততক্ষণে আলিয়া ভাট ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান তৈরি করে ফেলেছিলেন। কিয়ারার পরিবার সরাসরি চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও বলিউডের অনেকের সঙ্গেই তাদের পারিবারিক যোগাযোগ ছিল। অভিনয়জগতে কিয়ারার যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে ‘ফাগলি’ ছবির মাধ্যমে। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হলেও তিনি সবার নজরে আসেন। এরপর ২০১৬ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির জীবনীভিত্তিক ছবি ‘এম.এস. ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’তে একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা কুড়ান। ২০১৯ সালে সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ‘কবির সিং’ ছবিটি কিয়ারার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রীতির চরিত্রে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান। যদিও ছবির নারী চরিত্রটির উপস্থাপন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তবে কিয়ারার জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়ে যায়। এরপর ‘গুড নিউজ’, ‘শেরশাহ’, ‘ভুল ভুলাইয়া ২’ এবং ‘সত্যপ্রেম কি কথা’র মতো একের পর এক সফল ছবি উপহার দিয়ে তিনি প্রথম সারির তারকা হয়ে ওঠেন। ‘শেরশাহ’ ছবির শুটিংয়ের সময় অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে কিয়ারার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখার পর ২০২৩ সালে রাজস্থানের জয়সলমিরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁরা বিয়ে করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বিয়ের ছবি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। বিয়ের পরও বড় বাজেটের ছবিতে কাজ করলেও মা হওয়ার পর কাজের গতি কিছুটা কমিয়ে দেন কিয়ারা। পরিবার ও সন্তানকে সময় দিতে তিনি বেশ কয়েকটি বড় প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তও নেন। গত বছরের জুলাইয়ে স্বামী সিদ্ধার্থের সঙ্গে তাঁদের প্রথম কন্যাসন্তানের আগমনের খবর জানান তিনি। সেই সময় তাঁরা লিখেছিলেন, ‘আমাদের হৃদয় এখন পূর্ণ। আমাদের পৃথিবী চিরদিনের জন্য বদলে গেছে। আমরা কন্যাসন্তানের মা-বাবা হয়েছি।’ সম্প্রতি উদ্যোক্তা ও পডকাস্ট সঞ্চালক রাজ শামানির একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসে সন্তান জন্মের পর নারীদের মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন বা পোস্টপার্টাম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন কিয়ারা। তিনি জানান, এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁর ছয় মাস সময় লেগেছে। ওই সময়ে তিনি নিজেকে সহানুভূতিশীল হতে শিখিয়েছেন। কিয়ারা বলেন, ‘তুমি সবার জন্য এত কিছু করো যে নিজের সঙ্গে সম্পর্কটার কথা ভুলে যাও। নিজের জন্য কী দরকার, সেটাও ভাবা হয় না। আমার পুরো জীবনটাই ছিল অন্যদের ঘিরে। কিন্তু সন্তান জন্মের পর প্রথমবার নিজের সঙ্গে সম্পর্কটা লালন করার সময় পেয়েছি।’ ৩৪ বছর বয়সে এসে নিজের জীবনে সীমারেখা টানা ও ভয়কে গুরুত্ব না দেওয়া শিখেছেন বলে জানান তিনি। প্রথম দিকে ছোটখাটো বিষয়েও তিনি কান্নায় ভেঙে পড়তেন এবং এমন একজন মানুষকে পাশে চেয়েছিলেন যিনি কোনো উপদেশ না দিয়ে কেবল তাঁর কথা শুনবেন। সম্প্রতি যশের সঙ্গে ‘টক্সিক’ ছবির প্রচারণা শুরুর পর থেকেই আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন কিয়ারা। ছবিটির ‘তাবাহি’ গানটি প্রকাশের পর তাঁদের ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। একাংশের দাবি ছিল, বিয়ে ও মা হওয়ার পর কিয়ারার এমন দৃশ্যে অভিনয় করা ঠিক হয়নি। তবে তাঁর সহ-অভিনেতা বেনেডিক্ট গ্যারেট এই সমালোচনার জবাবে বলেন, তাঁরা পেশাদার অভিনয়শিল্পী এবং যশও বিবাহিত ও সন্তানের বাবা, তাই কেবল কিয়ারাকে নিশানা করা অনুচিত। জাতীয় পুরস্কারজয়ী নির্মাতা গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই অ্যাকশন ও আবেগঘন ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে দারুণ কৌতূহল রয়েছে। বম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘টক্সিক’ ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন কিয়ারা। তিনি জানান, পরিচালক গীতু মোহনদাস তাঁকে সেটে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘হাই-হ্যালো’ না করে সরাসরি চরিত্রের জোনে চলে যেতে বলেছিলেন, যা শুরুতে তাঁর জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর ছিল। এ ছাড়া কন্নড় ভাষায় অভিনয় করাটাও তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দৃশ্যগুলো প্রথমে ইংরেজিতে এবং পরে কন্নড় ভাষায় শুট করা হতো। প্রতিদিন শুটিংয়ের আগের রাতে সংলাপ মুখস্থ করে উচ্চারণ ও আবেগ ঠিক রাখা তাঁর জন্য বেশ কঠিন ছিল বলে জানান এই অভিনেত্রী। SHARES বিনোদন বিষয়: কিয়ারা আদভানিকিয়ারা আদভানির জন্মদিনটক্সিক সিনেমাবলিউডবলিউড অভিনেত্রীসিদ্ধার্থ মালহোত্রা