টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় ১১ দফা নির্দেশনা জারি জেলা প্রশাসনের

প্রকাশিত: 11:02 PM, August 2, 2026

রামসাইট খ্যাত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশগত ভারসাম্য এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। হাওরের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সীমানার ভেতর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাওরে চলাচলকারী সকল নৌযানের মালিক ও পরিচালনাকারীদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনাগুলো জানানো হয়। রবিবার রাত ৮টায় জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে এটি প্রকাশিত হয়। ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’-এর আলোকে এই ১১ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং এগুলো অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

প্রধান নির্দেশনাসমূহ অনুযায়ী, টাঙ্গুয়ার হাওরের ইসিএ সীমানায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশ করতে পারবে না। আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। নিবন্ধনহীন কোনো নৌযান চালানো যাবে না। এ বিষয়ে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি), সুনামগঞ্জ (মোবাইল ০১৭৩০-৩৩১১০৬) এর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

হাউসবোটের জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্তারোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: হাউসবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার বা পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করা যাবে না। নৌযানে পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার, সেপটিক ট্যাংক এবং কমপক্ষে দুটি ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়া কোনো ধরনের বর্জ্য হাওরে ফেলা যাবে না।

নৌযানের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্র ও নিরাপদ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে এবং ট্যুর শুরুর আগেই তাদের তা জানাতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য জেলা বা উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের নম্বরগুলোও নৌযানে প্রদর্শন করতে হবে।

প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং আকস্মিক ঝড়, বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং হাওরের সুরক্ষায় তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।