জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: 8:48 PM, August 4, 2026

আগামীকাল ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। তিনি আরও বলেন, এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে এবং বাংলাদেশে আর কখনও স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দের এবং বিজয়ের দিন। ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করে। এই বীর ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত দিনটিকে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। তিনি স্মরণ করেন যে, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী দল ও ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নির্যাতন সইতে হয়েছে। অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাবন্দি থাকতে হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের নির্দেশে শত শত গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ তৈরি করে মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করা হয়েছিল। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতাকর্মীর আজও সন্ধান মেলেনি। এ সময় বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং রাষ্ট্রকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। এছাড়া ব্যাংকিং খাত ধ্বংস করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটকে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে পরিণত করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। গণঅভ্যুত্থান দমনে ফ্যাসিস্ট সরকার হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে মায়ের কোলে থাকা শিশুসহ পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছে। শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম ও মুগ্ধসহ অসংখ্য সাহসী সন্তান গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রেরণা হয়ে উঠেছেন। এই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন, কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং শত শত মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তিনি জানান, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার, সংসদ সদস্য, প্রধান বিচারপতি, প্রধান খতিব ও মন্ত্রীরা পালিয়েছে, যা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি বাঁকে লাখো মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। শহীদদের প্রতি ঋণ পরিশোধের অঙ্গীকার হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ভিন্নমত গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, তবে তা যেন শত্রুতায় পর্যবসিত না হয়। ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের আন্তরিক প্রচেষ্টাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।