সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত: 9:44 AM, August 4, 2026 জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি, যা সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে, আজ মঙ্গলবার তার প্রথম বৈঠকে বসছে। এই কমিটির প্রধান কাজ হলো সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য সুপারিশ প্রণয়ন করে সংসদে রিপোর্ট পেশ করা। তবে কমিটি কীভাবে কাজ করবে, তাদের কর্মপরিকল্পনা কী হবে কিংবা কত দিনের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবে—এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আজকের প্রথম বৈঠকে মূলত কমিটির কর্মপদ্ধতি ঠিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের দিনই বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, এ ধরনের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাঁদের ধারণাগত মতপার্থক্য রয়েছে এবং তাঁরা এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সরকারি দল থেকে বিরোধী দলের পাঁচজনকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হলেও তারা কোনো নাম দেয়নি। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রথম বৈঠকে কর্মকৌশল নির্ধারণের পর তারা সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী ও গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনদের সাথে আলোচনা করবেন। এরপর প্রতিবেদন সংসদে পেশ করা হবে, যার ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় বিল আনবে এবং পরবর্তীতে সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে সংশোধনী চূড়ান্ত হবে। সংবিধান সংস্কারের আলোচনা শুরু হয়েছিল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর একটি ছিল অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন। পরবর্তীতে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়, যেখানে ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত ছিল। এই প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত ছিল এবং তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ভিন্ন আঙ্গিকে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বর্তমানে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ কমিটি কি জুলাই সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে, নাকি সেগুলোকে কেবল বিবেচনায় রেখে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নতুন করে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ তৈরি করবে—এমন প্রশ্নও আছে। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, সংবিধান সংস্কারে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ যে আঙ্গিকে ঐকমত্য হয়েছিল, তা তারা বিবেচনায় রাখবে। SHARES জাতীয় বিষয়: জুলাই জাতীয় সনদবিএনপিরাজনীতিসংবিধানসংসদ