‘যাকে পছন্দ হয় না তাকেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দেন’: কুমিল্লার এসপি প্রকাশিত: 5:16 PM, July 18, 2026 কুমিল্লায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠুর মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তোলার আহ্বান জানিয়ে এসপি বলেছেন, ‘যাকে আপনার পছন্দ হয় না, তাকেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দেন! মামলায় কাকে গ্রেপ্তার করব, সেটা আইন অনুযায়ী নির্ধারণ হবে। এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ না, আপনার বহু আগে আমি ঢাকায় ছাত্রদল করে আসছি।’ বৃহস্পতিবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় এসপি ও ছাত্রদল নেতার মধ্যকার বাগবিতণ্ডার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম মিঠু পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, ‘আপনি কুমিল্লায় আসার পরে ফ্যাসিস্টরা কুমিল্লায় চলে এসেছে। আপনি তাদের গ্রেপ্তার করছেন না। আমরা তথ্য দিলেও পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না।’ এমন বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলা উচিত। এটি কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয় এবং তথ্য ছাড়া এভাবে কথা বলা সমীচীন নয়।’ বক্তব্যে নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক কর্মী হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়ে পরে এসপি জানান, তিনি অতীতে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং উদাহরণ হিসেবেই বিষয়টি সভায় বলেছেন। তবে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে তিনি সম্পূর্ণ পেশাদারত্বের সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কুমিল্লায় যোগদানের পর মামলা-বাণিজ্যের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই ছাত্রদল নেতা পুলিশকে নিয়ে এমন ঢালাও অভিযোগ করছেন বলে দাবি করেন এসপি। অনুষ্ঠানে পুলিশ বাহিনীর বর্তমান প্রেক্ষাপট ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে এসপি বলেন, ‘কথা বলার আগে বাস্তবতা জানা দরকার। গত ৫ আগস্টের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যখন কোথাও পুলিশ ছিল না।’ সেই নড়বড়ে অবস্থা থেকে পুলিশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিগত ১৭ বছরে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। তাই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে পুনর্গঠনের জন্য সময় দিতে হবে। চার মাস বয়সী একটি সরকারকে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘একটি শিশুরও খাওয়া শিখতে ৯-১০ মাস সময় লাগে।’ বিচারহীনতার অভিযোগ খণ্ডন করে পুলিশ সুপার বলেন, ‘বিচার হয় না—এ কথা মোটেই ঠিক নয়। বিভিন্ন আলোচিত মামলায় বিচারক রায় দিয়েছেন, অনেকের ফাঁসির আদেশ হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান।’ তিনি নিজেই অনেককে গ্রেপ্তার করেছেন এবং চার্জশিট দিয়েছেন বলে সভায় জানান। বাগবিতণ্ডার বিষয়ে ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম মিঠু নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, জুলাই আন্দোলনে ঢাকায় কুমিল্লার লাকসামের জিসান নামের এক যুবক শহীদ হন। তার বাবা বাবুল সর্দার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করে কাঁদছিলেন। একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তিনি চুপ থাকতে পারেননি এবং শহীদের বাবাকে রক্ষা করতেই কথা বলেছেন। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অনুষ্ঠানটি ছিল জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভা। তবে ওই ছাত্রদল নেতা যে শহীদ জিসানের পরিবারের হুমকি নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, সেই ঘটনাটি ঘটেছিল ঢাকায়। তাই তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কুমিল্লার পুলিশের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না করার জন্য তিনি ছাত্রদল নেতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, কুমিল্লায় যোগদানের পর জুলাই আন্দোলনের মামলার অনেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা সভায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তিরা এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। SHARES রাজনীতি বিষয়: কুমিল্লাছাত্রদল নেতাজুলাই আন্দোলনপুলিশ সুপারবাগবিতণ্ডা