যুক্তরাষ্ট্রের টানা হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে মধ্যপ্রাচ্য

প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার আগুনে সোমবার ভোররাতেও কেঁপে উঠেছে পুরো অঞ্চল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর আরও এক দফা বড় ধরনের হামলা চালানোর কথা জানানো হয়েছে। মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে সিরিয়ায় ‘শত্রুবাহিনীর নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে’ পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রোববার গভীর রাতে ঘোষণা করে, তারা টানা নবম রাতের মতো ইরানের ওপর হামলা শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, এই হামলাগুলোর লক্ষ্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকেই তেহরান নিজ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ এবং সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিও ইরান কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুয়েতের সেনাবাহিনী সোমবার ভোরে জানায়, ইরানের আগ্রাসনের পর শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। কুয়েত সেনাবাহিনীর সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টের পোস্টে বলা হয়, যেকোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে তা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় থাকার সংকেত। এছাড়া বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বেজে উঠেছে এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জর্ডানও রোববার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকে সিরিয়ার আল-তানফ অঞ্চলে শত্রুপক্ষের বিশেষ অভিযান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে। ‘শহীদ সেনাদের রক্তের প্রতিশোধ’ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। এর আগে রোববার ইরান জানায়, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা হামলার জবাবে তারা কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, ওই হামলাগুলোতে একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন পরিবহন ও অবকাঠামো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।