মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। গত দুই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো জ্বালানি তেলের দাম এই উচ্চতায় পৌঁছাল, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটার নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। এর আগে গত ২২ জুলাই বুধবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারে অবস্থান করছিল।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের দুটি তেলের ট্যাংকার ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’র ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। গোষ্ঠীটির দাবি, লোহিত সাগরে তাদের ঘোষিত নৌ-অবরোধ অমান্য করার কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে। হুথিরা ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই আক্রমণ চালায়, যার ফলে একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের এই ধারাবাহিক হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সে সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছিল। এরপর এপ্রিল মাসে সংঘাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল। তবে মে মাসের শেষ দিকে দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে এবং জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলে দাম ৭১ ডলারে নেমে আসে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়া এবং পারস্য উপসাগরে নতুন করে সংঘাতের কারণে তেলের দাম পুনরায় দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।