অপরিকল্পিত প্রকল্পে জনগণের অর্থের অপচয় আর নয়: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২৬

বিগত দিনের মতো অপরিকল্পিত প্রকল্প হাতে নিয়ে জনগণের অর্থের অপচয় করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুমোদিত প্রতিটি প্রকল্পের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে আয়োজিত দুটি পৃথক সভায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর মধ্যে একটি সভা ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা, উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে দক্ষ ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে সুপারিশ প্রস্তাবের জন্য গঠিত কমিটির। অন্যটি ছিল বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমোদিত প্রকল্প গ্রহণ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক।

জ্বালানি খাতের ম্যাপিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের কোথায় কী ধরনের খনিজ সম্পদ রয়েছে তার একটি সুস্পষ্ট ভৌগোলিক ও তথ্যভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র বা রূপরেখা থাকা প্রয়োজন। তিনি বিভিন্ন সংস্থার কাছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ব্লক ম্যাপ ও ভূতাত্ত্বিক জরিপসহ প্রতিটি বিষয়কে একটি একক, আধুনিক এবং সমন্বিত রূপরেখায় আনার নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভূগর্ভস্থ সম্পদের সঠিক অবস্থান ও সম্ভাবনার চিত্র থাকলে সরকারের প্রতিটি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন ও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা সহজ হবে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি সারাদেশের জোনভিত্তিক জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের প্রকৃত চিত্র রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, কোথায় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণে কোনোভাবেই কালক্ষেপণ করা যাবে না।

পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকল্প অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনে তিনি প্রতিটি প্রকল্পের যৌক্তিকতা এবং জনগণের প্রয়োজন মেটাতে তার ভূমিকা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বিগত দিনের মতো অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের পেছনে জনগণের অর্থের অপচয় আর হতে দেয়া হবে না। সেবামূলক এই খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশনা দেন তিনি।

উক্ত বৈঠকগুলোতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ মন্ত্রণালয়ের এবং বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।