জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আজ থেকে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত প্রকাশিত: ১২:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২৬ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে বুধবার সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে রূপান্তরিত করে নির্মিত এই জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর প্রথম দিনের জন্য বরাদ্দকৃত মোট ৯০০টি টিকিটের সবগুলোই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জাদুঘর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব জানান, পরিদর্শনের পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন তিনটি নির্দিষ্ট সময়ে ৩০০ জন করে সর্বোচ্চ ৯০০ জন দর্শনার্থীকে মূল ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। পরিদর্শনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। দর্শনার্থীরা অনলাইন এবং সরাসরি কাউন্টার—উভয় মাধ্যমেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, উদ্বোধনের প্রথম দিনটি কেবল শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে সেদিন সাধারণ দর্শনার্থীরাও ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রায় ১৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই জাদুঘরে গণঅভ্যুত্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে। জাদুঘরের প্রবেশপথের লাল ইটের রাস্তার দুই পাশে স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের ইতিহাস প্রদর্শিত হচ্ছে। চত্বরে সাদা মার্বেল পাথরে খোদাই করা হয়েছে জুলাই স্মৃতিসৌধ, যেখানে শহীদদের নাম উৎকীর্ণ রয়েছে। এছাড়া চত্বরে প্রতীকী কবরস্থান, আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের দৃশ্য, সাঁজোয়া যান, সাইকেল মিছিলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং পিলখানা ও শাপলা চত্বরের ঘটনার ওপর নির্মিত ভাস্কর্য স্থান পেয়েছে। জাদুঘরের দক্ষিণ পাশে গোপন বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত ‘আয়নাঘর’-এর আদলে একটি প্রতীকী কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। জাদুঘরের নিচতলায় গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন নথিপত্রের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ক্ষতিগ্রস্ত বৈঠককক্ষটিকে অক্ষত অবস্থায় বিশেষ কাচ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় তলায় শহীদ আবু ইসাহাকের রক্তমাখা জামাসহ আন্দোলনে শহীদদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত নানা স্মৃতিচিহ্ন রাখা হয়েছে। এছাড়া পুরো ভবনজুড়ে থাকা বিশাল সব ডিজিটাল পর্দায় জুলাই আন্দোলনের দিনভিত্তিক ঘটনাপঞ্জি ও ভিডিওচিত্র দেখার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। SHARES জাতীয় বিষয়: গণঅভ্যুত্থানগণভবনজাতীয় জাদুঘরজুলাই স্মৃতি জাদুঘরশেরেবাংলা নগর