ফুটবল কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, ইনফান্তিনোকে কড়া বার্তা তিন মহাদেশের

প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নতুন করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। উয়েফা, কনক্যাকাফ এবং এএফসি—এই তিন মহাদেশীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক খোলা চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ফুটবল ‘কোনো ব্যক্তির একক সম্পত্তি নয়’। এই তিনটি সংস্থার সভাপতি এবং সেক্রেটারি জেনারেলদের স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ বিশ্বাসভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

চিঠিতে মূলত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রকল্প ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ফিফা বিশ্বকাপের মতো শীর্ষ প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিটিং স্বত্ব দেখভালের জন্য একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেই প্রতিষ্ঠানের ২১ শতাংশ শেয়ার একটি বেসরকারি বিনিয়োগকারী কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। তবে উয়েফার নেতৃত্বে কনক্যাকাফ ও এএফসির তীব্র বিরোধিতায় গত ১ আগস্ট ফিফা সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়। উয়েফা এমনকি ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জনেরও হুমকি দিয়েছিল।

খোলা চিঠিতে সরাসরি ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ না করা হলেও বলা হয়েছে, ‘প্রতারণার মাধ্যমে যখন বিশ্বাস ভঙ্গ করা হয় এবং কোনো ব্যক্তি যখন দায়িত্ব পেয়ে নিজেকে সবার ওপরে স্থান দেন—তখন তিনি মূলত নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যকেই বিসর্জন দেন।’ চিঠিতে আরও যোগ করা হয়, ফুটবলের নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং এটি ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার বিষয়ও নয়। এটি ফুটবল পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া একটি আমানত, যা সেবা করার জন্য দেওয়া হয়েছে। বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এই চিঠিকে ইনফান্তিনোর জন্য সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এর আগেও উয়েফা ও নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন অনাস্থা প্রকাশ করেছে এবং পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রো তার বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের’ অভিযোগ তুলেছে। আগামী মার্চ মাসে মরক্কোর রাবাতে ফিফা সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়বেন ইনফান্তিনো। নিয়ম অনুযায়ী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে হবে।

এদিকে, ইনফান্তিনোর পক্ষেও শক্ত অবস্থান রয়েছে। মরক্কোয় এক বৈঠকে ফিফার শীর্ষ নির্বাহী, দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল ফেডারেশন (কনমেবল), কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) এবং আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, প্যারাগুয়ে, কাতার ও কুয়েতের মতো দেশগুলো তাঁর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। গত শনিবার ফিফার বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইনফান্তিনোকে দুর্বল করার জন্য একটি সুসংগঠিত চক্রান্ত চলছে। তবে তিন মহাদেশীয় সংস্থা মরক্কোর বৈঠককে অর্থহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, জুরিখে মূল কার্যালয়ে না গিয়ে গোপনে বিদেশের মাটিতে গুটিকয় সদস্যকে নিয়ে বৈঠক করাটা একজন অভিভাবকের আচরণ নয়, বরং এমন ব্যক্তির আচরণ যিনি মনে করেন ফুটবল তার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।

১০ বছর ধরে ফিফা সভাপতির পদে আছেন ইনফান্তিনো।সুইস-ইতালিয়ান এ আইনজীবীর পক্ষে দাঁড়ানোর মানুষও আছে।

এটি ফুটবলের কোনো অভিভাবকের আচরণ হতে পারে না, বরং এমন এক ব্যক্তির আচরণ, যিনি মনে করেন ফুটবল তার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।’তিন মহাদেশীয় সংস্থার যৌথ চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘সহসভাপতি ও ২১১টি সদস্যদেশের কাছে পাঠানো সাম্প্রতিক চিঠিতে ফিফা স্বীকার করেছে যে প্রক্রিয়ায় ভুল হয়েছিল।