শেখ হাসিনার ছায়া থেকে বেরিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের তাগিদ

প্রকাশিত: ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৬

গত সপ্তাহে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখার পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক টেলিগ্রাফের এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা, তার ছেলে এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারা ভারতীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানকে খাটো করার চেষ্টা করছেন। তারা বাংলাদেশে ইসলামপন্থী উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসীদের অবাধ তৎপরতার অভিযোগ তুলেছেন, যা থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শেখ হাসিনা ও তার মিত্রদের এসব বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও নয়াদিল্লির কাছে আপত্তি জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশ সরকার নয়াদিল্লির কাছে শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। সোমবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানোর পর বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। টেলিগ্রাফের মতে, নয়াদিল্লির জন্য এখন একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের প্রয়োজন। ভারত তার বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারবে না, আবার ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ওপর শেখ হাসিনাকে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া যাবে না। এটি ভারতের জন্য একটি কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। অনেকের মতে, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য ভারতের সমর্থন দায়ী, যার ফলে তার কড়া সমালোচকদের একাংশ ভারতবিরোধী অবস্থানে রয়েছেন। নয়াদিল্লি জানে, যারা শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে দেখেন, তাদের সঙ্গে আপস করা সম্ভব নয়।

তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কোনোভাবেই পরিত্যাগ করা সম্ভব নয়। সম্পাদকীয়তে আশার কথা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত কয়েক মাসের ঘটনাবলি সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি পথ তৈরি করেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টিকে থাকার সুযোগ তৈরি করেছে, যা দুই দেশের সরকার এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এখন এই অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সীমান্তের দুই পাশের উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নয়াদিল্লি ও ঢাকার ওপর নির্ভর করছে। কূটনৈতিক জটিলতা এড়িয়ে চলার জন্য এখন দুই দেশকেই স্পষ্ট অবস্থান এবং শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।