পল্লবীতে গোলাগুলির ঘটনায় ডিবির জালে ‘ল্যাংড়া রুবেল’সহ গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশিত: ৪:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২৬

গত ৭ আগস্ট রাজধানীর পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় সংঘটিত গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—হামিদ খান ওরফে মাখন, ল্যাংড়া রুবেল, তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পা, পারভেজ এবং রাব্বী। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, এক হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ডিবির ভাষ্যমতে, গত ৭ আগস্ট বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে পল্লবী থানার সেকশন-১১ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, মাদকদ্রব্য বিক্রির লেনদেনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এই হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় আলমগীর নামে এক ব্যক্তি এবং পথচারী জোসনা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। উল্লেখ্য, গুলিবিদ্ধ আলমগীর নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচিত।

ঘটনার পর আলমগীরের স্ত্রীর দায়ের করা হত্যা চেষ্টার মামলার সূত্র ধরে ডিবি পুলিশ ছায়াতদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হামলাকারীদের ব্যবহৃত একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি শনাক্ত করা হয়। গাড়িটির নিবন্ধিত মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী থেকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, গাড়িটি মূলত ‘ল্যাংড়া রুবেল’ ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে হামিদের তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবীর কালশী থেকে পারভেজ ও রাব্বীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ইয়াবাভর্তি একটি সাদা টয়োটা ভক্সি গাড়ি উদ্ধার করা হয়। সবশেষে রূপনগর থানার ইস্টার্ন হাউজিং-সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ল্যাংড়া রুবেল ও তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি জানিয়েছে, এই ঘটনায় হত্যা চেষ্টার মামলার পাশাপাশি অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িত অন্য কাউকে পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।