গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও সিএনজি পাম্পে দীর্ঘ সারি ও ভোগান্তি প্রকাশিত: ৯:১২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬ কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনালগুলোর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। সামিট গ্রুপের টার্মিনালটি পুরোদমে এবং মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি আংশিক চালু হওয়ার পর এই সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর চারটা নাগাদ সামিটের টার্মিনাল থেকে ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ শুক্রবারের ১৭৩ কোটি ঘনফুট থেকে বেড়ে শনিবার প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। তবে এই বৃদ্ধি সত্ত্বেও স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় দিনে এখনো ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়ে গেছে। সরবরাহ বাড়লেও রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। চালকদের আগের মতোই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ঢাকার অন্তত পাঁচটি পাম্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে চরম ভোগান্তির চিত্র পাওয়া গেছে। ইস্কাটনের অনুদিপ সিএনজি স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি বাংলামোটর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, যেখানে চালকদের ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মগবাজার রেলগেট এলাকার যমুনা অটোতে গ্যাস নিতে আসা গাড়িগুলোর কারণে চৌরাস্তা থেকে রেলগেট পর্যন্ত তীব্র যানজট তৈরি হয়। এছাড়া তেজগাঁওয়ের অল ইন ওয়ান ফিলিং স্টেশন এবং বিআরটিসি পরিচালিত সিটি ফিলিং স্টেশনেও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, যদিও অনেক পাম্পে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক নয় বা দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। গ্যাস নিতে আসা ব্যক্তিগত গাড়িচালক মনির জানান, তিনি সাড়ে সাত ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। গাজীপুর থেকে বনানী ও মহাখালীর একাধিক পাম্প ঘুরে গ্যাস না পেয়ে তেজগাঁওয়ে আসা জুয়েল বলেন, অনেক জায়গায় পাম্প বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়লেও পাম্পগুলোতে চাপ সেই অনুপাতে বাড়েনি। অল ইন ওয়ান ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার সৈকত সরকার জানান, গ্যাস লাইনে আসার পর তারা সীমিত আকারে সরবরাহ দিতে পারছেন। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাসের এই সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দু’টি ভাসমান টার্মিনাল আছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র জানিয়েছে, শনিবার ভোর চারটার দিকে সামিটের টার্মিনাল থেকে গতকাল সরজমিন পাম্পগুলোতে দেখা যায়, সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর ব্যক্তিগত যানবাহন নিয়ে চালকরা দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে ৫টি পাম্পে গেলে ৪টিতেই গ্যাস পাওয়া গেছে। ১টি পাম্পে দীর্ঘদিন ধরেই মিলছে না গ্যাস। ইস্কাটন এলাকার অনুদিপ সিএনজিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আলাদা করে দুটো সারি তৈরি করা আছে SHARES রাজধানী বিষয়: এলএনজিগ্যাস-সংকটজ্বালানিপেট্রোবাংলারাজধানীসিএনজি পাম্প