সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২৬

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট নিরসনে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহ পর্যাপ্ত না হলে পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোতে সংকট তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, যা মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে কার্যকর করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আজ সন্ধ্যা থেকেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির পথে প্রধান বাধা হিসেবে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল অবস্থাকে দায়ী করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সমুদ্র উত্তাল থাকায় সামিটের টার্মিনালে কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া এক্সিলারেট টার্মিনালটিও বর্তমানে আংশিক সক্ষমতায় চলছে। এটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে প্রায় ৭২ ঘণ্টার জন্য টার্মিনালটি বন্ধ রাখার প্রয়োজন, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং জনদুর্ভোগ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রেখে টার্মিনাল বন্ধের সময়সীমা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে পরামর্শ করা হচ্ছে।

জনগণের চরম ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মানুষের কষ্টের বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই এবং এ কারণে আমরা বারবার জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তিনি বলেন, আমরা অসহায়, প্রকৃতির কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়। প্রকৃতি স্বাভাবিক হলে গ্যাস খালাস সম্ভব হবে এবং সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

মধ্যমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং একটি প্রতিনিধি দল সেখানে সফর করেছে। তাদের কাছ থেকে অন্তত এক কার্গো এলএনজি পাওয়ার আশা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, হাতে থাকা প্রতিটি বিকল্প নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ইউএস বাংলাদেশ চেম্বারের কাছেও এলএনজি সহায়তার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিবর্তে তাৎক্ষণিক সমাধানের পথ অনুসরণ করায় বর্তমানে হঠাৎ করে এই সংকট তৈরি হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সময়ে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। তবে সরকার জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে যেকোনো মূল্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।