ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুমিছিল: সুনামগঞ্জের ৫ যুবকসহ নিখোঁজ বহু বাংলাদেশি

প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬

খাবার ও পানি ছাড়া ভূমধ্যসাগরে দীর্ঘ ১১ দিন ভেসে থাকার পর একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বেঁচে যাওয়া সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আবদুল করিম জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি। এই ভয়াবহ ঘটনায় শান্তিগঞ্জের আরও পাঁচ যুবকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

মিশরে চিকিৎসাধীন আবদুল করিমের তথ্যের ভিত্তিতে কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে ৪২ জন যাত্রী নিয়ে গ্রিসের উদ্দেশ্যে নৌকাটি যাত্রা শুরু করেছিল। পথিমধ্যে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তারা সাগরে আটকা পড়েন। এরপর প্রায় ১১ দিন ভাসমান অবস্থায় প্রচণ্ড গরম ও পানিশূন্যতায় যাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গত ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে নৌকাটি পৌঁছালে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয় এবং প্রায় ২৯ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়।

আবদুল করিম জানান, নৌকাটিতে ৩৮ জন বাংলাদেশি ও চারজন সুদানি নাগরিক ছিলেন। প্রচণ্ড তৃষ্ণায় তার চোখের সামনেই নয়জন বাংলাদেশি ও পরে আরও দুজনসহ মোট ১১ জন মারা যান, যাদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন তারা। করিমের ভাষ্যমতে, নৌকাটির ধারণক্ষমতা ছিল ২৫ জনের, কিন্তু সেখানে ৪২ জনকে তোলা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার ফলে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাদের শরীরে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

নিখোঁজ পাঁচ যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—পাগলা শত্রুমর্দান গ্রামের হৃদয় পাল, চিকরকান্দি গ্রামের এনামুল খান, রিপন মিয়া ও মামুন খান এবং রানসি গ্রামের মো. তালহা। হৃদয়ের চাচা কানন পাল জানান, গত ৩১ জুলাই সর্বশেষ কথা হওয়ার পর তিনি জানিয়েছিলেন ৩ আগস্ট যাত্রা করবেন। দুটি নৌকার মধ্যে হৃদয় দ্বিতীয়টিতে ছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার জানিয়েছেন, এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি, তবে ভিডিও ফুটেজের সত্যতা যাচাই করা হবে। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসেও লিবিয়া থেকে গ্রিসগামী নৌকায় ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছিল, যাদের মধ্যে ১২ জনই ছিলেন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা।