বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও টেস্ট সিরিজ খেলতে চান অ্যালেক্স ক্যারি

প্রকাশিত: ৪:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৬

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলার ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয় পেলেও, ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিকদের কাছে হারতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। তবে সিরিজটি শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হলেও টাইগারদের লড়াকু মানসিকতা ক্রিকেট বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার-ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি তো সরাসরিই জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও বেশি টেস্ট সিরিজ খেলতে চান তারা।

ম্যাকাই টেস্টটি অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে যায়। ম্যাচের তৃতীয় দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে দুই দলের লড়াইয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন ক্যারি। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে ও টেস্ট—উভয় সংস্করণেই বাংলাদেশের বিপক্ষে হওয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলোর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর একটি সিরিজ ছিল এবং চমৎকার ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের মধ্য দিয়ে খেলা হয়েছে। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ও টেস্ট মিলিয়ে দারুণ কিছু লড়াই হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যতে টাইগারদের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার প্রত্যাশা জানিয়ে ক্যারি বলেন, আমার মনে হয় টেস্ট ক্রিকেটে আমরা বাংলাদেশকে আরও অনেকবার মুখোমুখি হতে দেখব। আমরা তাদের বিপক্ষে আরও বেশি সিরিজ খেলতে চাই। মাঠের লড়াই শেষে তাদের সঙ্গে দেখা করা এবং আড্ডা দেওয়াটাও বেশ ভালো লাগার বিষয় ছিল।

এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের বেশ ভুগিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের বোলিং পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে সব মহলে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজের পর ম্যাকাই টেস্টেও অজি ব্যাটিং লাইনে ধস নামান শরিফুল। তাকে নিয়ে আলাদাভাবে ক্যারি বলেন, ওয়ানডে সিরিজে আমরা তাকে দেখেছিলাম। ঢাকার শেষ ওয়ানডে ম্যাচে সে ৬ উইকেট নিয়েছিল। এখানে এসেও সে একই কাজ করেছে এবং দারুণ বোলিং করেছে। বাংলাদেশের সব পেসারই এই সিরিজে অনেক ভালো বল করেছে, তবে শরিফুল প্রথম দিনেই নিজের বোলিংয়ের যোগ্য পুরস্কার পেয়েছে।

ডারউইনের প্রথম টেস্টে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর ম্যাকাইয়ে ঘুরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে ক্যারি নিজের মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রথম টেস্টে আমরা সব বিভাগেই আউটপ্লেড হয়েছিলাম। তবে এখানে আমরা দারুণভাবে বাউন্স ব্যাক করেছি এবং কাজটা ভালোভাবে শেষ করেছি। আমরা ২০০-এর বেশি রান করেছি, যদিও স্কোরটা আরও বড় করা যেত। দুই দিনে ম্যাচ শেষ হওয়া নিয়ে তার মন্তব্য, এটি ভিন্ন কিছু নয়। আমাদের মূল কাজ হলো পারফর্ম করে ম্যাচ জেতা। ম্যাচ ২ দিনে শেষ হোক বা ৩-৪ দিনে, আমরা জয়েই খুশি।

অস্ট্রেলিয়ায় আগস্ট মাসের কন্ডিশনে টেস্ট ম্যাচ আয়োজন নিয়ে ক্যারি বলেন, আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট খেলা সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা। অতীতে সাধারণত এমন সময়ে আমরা বিদেশে খেলতাম, তবে এবার দেশের মাটিতেই খেলেছি। ডারউইন ছিল একটি চমৎকার স্টেডিয়াম এবং ওখানকার পিচও বেশ ভালো ছিল। আশা করি ভবিষ্যতে এখানে আরও সাদা বলের ম্যাচ আয়োজন করা হবে।