ওসমান হাদি হত্যা: অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুলের জামিন মেলেনি হাইকোর্টে

প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলালের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে আসামি মাজেদুলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিন্টু কুমার মন্ডল।

এর আগে, এই হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গত ১৮ই এপ্রিল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন মাজেদুল হক হেলাল। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তার সেই জবানবন্দি রেকর্ড করেছিলেন। তারও আগে, চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকা থেকে মাজেদুলকে গ্রেপ্তার করার পর গত ১৫ এপ্রিল আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তথা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ顺 সুপার আবদুল কাদির ভূঞা। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে যে আগ্নেয়াস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি নরসিংদী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই উদ্ধারের ঘটনায় নরসিংদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি পৃথক মামলাও করা হয়েছে। পরবর্তীতে ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উদ্ধারকৃত পিস্তলটি থেকেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে পাওয়া কার্তুজের গুলি ছোঁড়া হয়েছিল। তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, মাইক্রো-অ্যানালাইসিস পরীক্ষার মাধ্যমে পিস্তলটির সিরিয়াল নম্বর উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ঢাকার এমআইএইচ আর্মস কোম্পানি ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর পিস্তলটি ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে বিক্রি করেছিল। এরপর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি পিস্তলটি চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির মালিক হলেন মো. মাজেদুল হক হেলাল। তবে এই প্রতিষ্ঠানের অস্ত্র ব্যবসার লাইসেন্স ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর আর নবায়ন করা হয়নি।

উল্লেখ্য, নিহত ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) মামলাটি তদন্ত করে গত ৬ জানুয়ারি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে মামলার বাদী ওই অভিযোগপত্রের ওপর আদালতে নারাজি আবেদন জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। বর্তমানে সিআইডি এই মামলাটির অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।