মেসির ফর্ম ভালো তবুও কেন ডুবছে ইন্টার মায়ামি? প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৬ টরোন্টো এফসির বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের ম্যাচে রদ্রিগো দি পলকে উদ্দেশ্য করে লিওনেল মেসির ক্ষোভ প্রকাশই বুঝিয়ে দেয়, চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি নিয়ে আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই মহাতারকা কতটা বিরক্ত। এক বছর আগেই মায়ামিকে এমএলএস কাপ জিতিয়ে গোল্ডেন বুট ও এমভিপির পুরস্কার জেতা মেসি এখন যে পরিস্থিতির মুখোমুখি, তা যেন ২০২৩ সালে তার যোগ দেওয়ার আগের সেই ভঙ্গুর দলের কথাই মনে করিয়ে দেয়। টরোন্টোর কাছে এই হার সব মিলিয়ে মায়ামির টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার নজির তৈরি করল, যার মধ্যে তিনটি এমএলএসে এবং দুটি লিগস কাপে। ইস্টার্ন কনফারেন্স এবং সাপোর্টার্স শিল্ডের শীর্ষস্থান থেকে মায়ামি এখন পুরো ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে। ন্যাশভিল এসসির দুর্দান্ত ফর্মের বিপরীতে মায়ামির ট্রফি জয়ের সম্ভাবনাও ফিকে হয়ে আসছে। ৩৯ বছর বয়সী মেসি ব্যক্তিগতভাবে চলতি মৌসুমে ১৮টি লিগ ম্যাচে ১৪টি গোল করেছেন এবং সব মিলিয়ে দলের ২৪টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন, যা দলের মোট গোলের ৪৯ শতাংশ। তবুও দলটির পুরো কাঠামো এখন মেসির ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠায় দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও গতিশীলতার অভাব স্পষ্ট। ২০২৫ সালের সেই ধারালো আক্রমণ ও সমন্বয়ের অভাব এখন স্পষ্ট। বিশ্লেষকদের মতে, মায়ামি মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে মেসির পছন্দের খেলোয়াড়দের দলে ভেড়ানোকেই প্রধান মানদণ্ড বানিয়েছে। ন্যাশভিলের কাছে ৪-১ গোলে হারের ম্যাচে মায়ামির রক্ষণভাগের দুর্বলতা প্রকট হয়ে উঠেছিল। এছাড়া কাসেমিরো, জার্মান বেরতেরামে কিংবা রদ্রিগো দি পলের মতো নতুন সংযোজনগুলো প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। কাসেমিরো মায়ামির হয়ে পাঁচ ম্যাচে মাত্র ৪টি সুযোগ তৈরি করেছেন এবং একটি আত্মঘাতী গোলসহ দুটি হলুদ কার্ড দেখেছেন। অন্যদিকে, ইয়ান ফ্রে, নোয়াহ অ্যালেন বা সের্হিও রেগিলন কেউই জর্দি আলবার শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেননি। ২০২৫ সালেও মায়ামির খেলায় ঘাটতি ছিল, কিন্তু মেসি ছাড়াও সদ্য অবসর নেওয়া সের্হিও বুসকেতস এবং জর্দি আলবার মতো অভিজ্ঞদের নৈপুণ্যে তারা এমএলএস কাপ নিশ্চিত করতে পেরেছিল। কিন্তু এবার দলটির দুর্বলতা পুরোপুরি উন্মোচিত হয়েছে। ইন্টার মায়ামির মালিকপক্ষ, যার অংশীদার মেসি নিজেও, তাদের উচিত বয়সের শেষ প্রান্তে থাকা মহাতারকার চাহিদার চেয়ে দলের প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী তরুণ ও মেধাবী খেলোয়াড় দলে নেওয়া। ২০২৭ মৌসুমের আগে লিগের নিয়ম কিছুটা শিথিল হতে পারে। তবে তার আগেই ২০২৬ মৌসুম বাঁচাতে হলে বয়স্ক ও অকার্যকর তারকাদের দ্রুত ছেড়ে দিয়ে দলের শূন্যস্থানগুলো কার্যকর রোল প্লেয়ার দিয়ে পূরণ করা জরুরি। যদিও মেসির ব্যবসায়িক প্রভাব ও ক্লাব পরিচালনায় তার ভূমিকার কারণে এই পরিবর্তন আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গুঞ্জন রয়েছে যে, বাবার মৃত্যুর পর মেসি অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং মৌসুম শেষে ক্লাব ছাড়তে পারেন। মেসি ছাড়া মায়ামিকে শীর্ষ পর্যায়ে টিকে থাকতে হলে এখনই কঠোর ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। SHARES খেলাধুলা বিষয়: ইন্টার মায়ামিএমএলএসফুটবল বিশ্লেষণলিওনেল মেসি