বাংলাদেশ-চীন কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাকে চালিকাশক্তি করার আহ্বান মাহদী আমিনের

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৬

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ (পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি) আরও জোরদার করতে শিক্ষাকে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। চীন সরকারের আমন্ত্রণে বেইজিংয়ে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার গভীর ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসননামলে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। বর্তমান সরকারও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও কার্যকর করতে শিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং কারিগরি শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

বাংলাদেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-কে অর্থনীতির বড় শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অতিমাত্রায় তত্ত্বনির্ভর ছিল। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মজগৎ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের নানা সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে বর্তমান সরকার শিক্ষাকে আরও কর্মমুখী ও প্রায়োগিক করতে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (TVET) অগ্রাধিকার দিয়ে তা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তরুণদের এগিয়ে রাখতে মান্দারিন বা চীনা ভাষাসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষাক্রমের সঙ্গে শ্রমবাজারের সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের চাকরির পথ সহজ করতে আধুনিক এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মাহদী আমিন। চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক র‍্যাংকিং ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, চীনের উন্নত গবেষণার সংস্কৃতি ও বৈশ্বিক সেরা চর্চাগুলো বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে চীনের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার স্কলারশিপ বহুগুণে বাড়ানোর আহ্বান জানান মাহদী আমিন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ল্যাবরেটরি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে যৌথ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, চীনা শিক্ষার্থীদের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ও সামার স্কুলের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসার সুযোগ এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে তিনি চীনের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে এসে সম্ভাবনা যাচাই এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর সঙ্গে যৌথ অ্যাকাডেমিক ডিগ্রি ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান। চীনে বর্তমানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণেও দুই দেশকে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়াসহ চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ‘চীন-বাংলাদেশ শিল্প ও শিক্ষা একীকরণ আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র’ নামক একটি যৌথ আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করা হয়। এই উদ্যোগের সফলতা কামনা করে মাহদী আমিন বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মেধা ও গবেষণার মেলবন্ধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। চমৎকার এই অনুষ্ঠানটি আয়োজনের জন্য তিনি চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান।